ইরান যুদ্ধ : চুক্তির জন্য কার কী শর্ত?

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান প্রত্যেকেই তাদের কঠোর অবস্থান ও বিভিন্ন ধরনের শর্ত তুলে ধরেছে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানে ইতোমধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতায় ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের অবসানে ইরানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কঠিন কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
• কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র?
পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং মার্কিন প্রশাসনও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা কিছু প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই প্রস্তাবে কী রয়েছে, সেই বিষয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার তিনটি সূত্র জানিয়েছে...
বিজ্ঞাপন
• ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়া
• ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করা
• ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে লাগাম টানা
• লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা
বুধবার হোয়াইট হাউস বলেছে, তেহরান এই প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘নজিরবিহীন কঠোর’ হামলা শুরু করবে। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিষয়টির সম্পর্কে অবগত মার্কিন দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
• ইরানের অবস্থান কী?
ইরানের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের প্রতিক্রিয়া ‘ইতিবাচক’ নয়। তবে তারা এটি পর্যালোচনা করছে।
বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
ইরানের সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্বকে তাদের ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে দাবি করেছে।
তেহরানের অবস্থানের বিষয়ে অবগত ছয়টি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধকেও যেকোনও যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি না হলে ইরানও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার নিজস্ব সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেছে, তারা আরেকটি প্রধান সমুদ্রপথ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে পারে; যা উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু তেলের জন্য বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে কাজ করে।
এ ছাড়া ইরান দাবি করেছে, তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে যে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক একটি দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনা করছে। এমনটি হলে ওই দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে তেহরান। তবে কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ইরান।
• ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান মার্কিন শর্তগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে ইসরায়েল সন্দিহান। তবে ট্রাম্প ইরানকে কোনও ছাড় দেন কি না, তা নিয়েও ইসরায়েল উদ্বিগ্ন।
অন্য একটি সূত্র বলছে, ইসরায়েল এমন একটি চুক্তি চায়; যা ভবিষ্যতে তাদের প্রয়োজনে ইরানের ওপর আগাম বা প্রতিরোধমূলক হামলা চালানোর সুযোগ বহাল রাখবে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, বর্তমান লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া এবং ইরানের ভেতরে এখনও অনেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
এসএস