ইরান যুদ্ধ সম্ভবত শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে চলে গেলেই হরমুজ প্রণালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমরা সেখানে আর বেশিদিন থাকতে যাচ্ছি না। আমরা বর্তমানে তাদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি। এটি পূর্ণাঙ্গ ধ্বংসলীলা। আমাদের সেখানে খুব বেশিদিন থাকার প্রয়োজন হবে না। তবে তাদের যেটুকু আক্রমণাত্মক সক্ষমতা অবশিষ্ট আছে তা নির্মূল করার জন্য আমাদের আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।’’
টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মার্কিন অভিযান ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করছে এবং এই অভিযান বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ হরমুজ প্রণালি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ করে রেখেছে ইরান। এই প্রণালি সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ ছাড়াই পুনরায় খুলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব দেশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল, তারা চলাচলের পথ পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। যেসব দেশ এই প্রণালি ব্যবহার করছে, তাদেরকেই এটি খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরানের ইসফাহান শহরে পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ফুটেজের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব হামলাকে ‘কার্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আমি বরং এই বিষয়ে কিছু না বলি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে। মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, মার্কিন অভিযানের ফলে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তিনি দেশটির নেতৃত্ব কাঠামোর পরিবর্তনের প্রতি ইঙ্গিত দিলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। সংঘাত শিগগিরই স্তিমিত হওয়ার আভাস দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে; যার মধ্যে মেরিন উভচর ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারও রয়েছে।
সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কিংবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে কি না, সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাম্প। সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয় নিয়ে আপনার সাথে কথা বলতে পারছি না।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট।
এসএস
