ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের দক্ষিণে মার্কিন বাহিনীর এক উদ্ধার তৎপরতা নসাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন ওই অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সামরিক পরিবহন বিমানসহ কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
বিজ্ঞাপন
দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি রোববার মার্কিন ওই অভিযান নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইসফাহানে কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে। এর মাধ্যমে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক পাইলটকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের মধ্যাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে ওই পাইলটকে বের করে নেওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল। সেই সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে মার্কিন অভিযানকে নস্যাৎ করে দেয়।
বিজ্ঞাপন
মুখপাত্র বলেন, ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স, পদাতিক বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের যৌথ অভিযান সফলভাবে অনুপ্রবেশকারী মার্কিন বিমানগুলোকে বাধা দেয় এবং ধ্বংস করে।
এই অভিযানে একাধিক শত্রু বিমান ধ্বংস করা হয়েছে জানিয়ে তিনি এই ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও একটি ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এ সময় তিনি ১৯৮০ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’র সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা করেন।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই পাইলটকে উদ্ধারে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনার দাবি করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিজ্ঞাপন
সংঘাতের ভয়াবহতার ওপর জোর দিয়ে মুখপাত্র বলেন, মহান আল্লাহর সাহায্য এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), সেনাবাহিনী, বাসিজ এবং পুলিশ বাহিনীর সময়োচিত ও সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে শত্রুর বিফল প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নসাৎ হয়েছে।
তিনি বলেন, ধ্বংস হওয়া সব বিমানের মধ্যে দু’টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান ছিল। দক্ষিণ ইসফাহানে আঘাত হানার পর বিমানগুলো জ্বলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
এসএস
