গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া এবং তার জেরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ আরোপ করায় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছিল, ফলে বাড়তে শুরু করেছিল তেলের দাম।
বিজ্ঞাপন
৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর নাটকীয় ভাবে কমতে শুরু করেছিল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ৮ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
তবে ৮ এপ্রিল রাতে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হামলা চালানোর পর ফের বেড়েছে তেলে দাম। বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালানোর পর জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়েছে প্রায় চার শতাংশ।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৮ দশমিক ৪৪ ডলারে, যা গতকাল বুধবারের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞাপন
আর জ্বালনি তেলের অপর বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৭ দশমিক ৮৮ ডলারে। গতকাল বুধবারের তুলনায় এই দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং তার জেরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তাই এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ।
তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভান্দা ইনসাইটসসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বন্দনা হরি রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “তেলের দামে অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি সংকট। এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা আসা প্রায় অসম্ভব।”
বিজ্ঞাপন
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ
