• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. আইন-আদালত
ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার আইনজীবী

‘শাপলা চত্বরে দু-চারজন লোক মারা যেতেও পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:৫৫
অ+
অ-
‘শাপলা চত্বরে দু-চারজন লোক মারা যেতেও পারে’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণহত্যা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনার মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। দু-চারজন লোক মারা যেতে পারে বলে দাবি তার।

বিজ্ঞাপন

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল আজ (২০ অক্টোবর)।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক শুরু করেন আমির হোসেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

নিজের যুক্তিতর্কে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে আনা অভিযোগসহ বিভিন্ন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত এই আইনজীবী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনালের আইন, আওয়ামী শাসনামল, একাত্তরের পটভূমি, শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন আমির হোসেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা : ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ
আওয়ামী লীগের আমলে কোনো দুঃশাসন ছিল না : শেখ হাসিনার আইনজীবী

শাপলা চত্বর প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনার আইনজীবী বলেন, শাপলা চত্বর আমার নিজের চোখে দেখা। যেদিন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যার কথা বলা হয়। এর আগের দিন সারা ঢাকা শহরের বিশেষ করে পল্টন, বায়তুল মোকারম এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে তারা। বেশ মোটা মোটা গাছ তারা মাঝখান দিয়ে কেটে ফেলেছে। করাত পেলো কোথায়? তারা এসব ব্যবস্থা করেই এসেছে। বাড়িঘরসহ অফিস-আদালতেও ভাঙচুরসহ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তাণ্ডব করেছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যদি সরকার তাদের সমাবেশকে প্রতিহত করে বা প্রতিহত করতে সাউন্ড গ্রেনেড অথবা একটি গণজমায়েতকে ছত্রভঙ্গ করে; তারা যেন কোনোরকম অপকৌশল করে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে, রাষ্ট্রের জানমালের ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্য বৈধ উপায়ে তাদের যদি ছত্রভঙ্গ করা হয়, সেটা কি অপরাধ ছিল? সেই সময়কে বলা হয় গণহত্যা।

এ সময় কেউ মারা গেছেন কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আমির হোসেন দাবি করেন, ওই সময় দু-চারজন লোক মারা যেতেও পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে বলা হয় গণহত্যা। গণহত্যা মানে বিরাট ব্যাপার। হাজার হাজার লোক মারা যাওয়ার অর্থ হলো গণহত্যা। আর একটা সম্প্রদায়কে নিঃশেষ করার নাম হলো গণহত্যা।

বিজ্ঞাপন

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, শাপলা চত্বরে ৩০ জনেরও অধিক মানুষ মারা গেছে। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আমির হোসেন বলেন, কোথায়, কোথায় মারা গেছে। ৩০ জন মারা গেলে সারা বাংলাদেশে ৩০টা জিডি বা অভিযোগ থাকবে। অথচ কোথাও কোনো অভিযোগ নেই লর্ডশিপ। সেখানে বেশিরভাগ এতিম শিশু ছিল। তাদের যারা নিয়ে আসছে আমি তাদের ধিক্কার জানাই। কারণ, ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেদের তারা আন্দোলনে নামিয়েছে। আমি নিজে দেখেছি। বাচ্চা ছেলেদের নামিয়ে তারা বড় অপরাধ করেছে। বাচ্চারা কী বোঝে আন্দোলনের?

আমির হোসেনের এমন কথায় ট্রাইব্যুনাল বলেন, এজন্য বাচ্চাদের মেরে ফেলতে হবে? তখন আইনজীবী জবাব দেন, আমি তো মারছি তা বলছি না। মাননীয় লর্ডশিপ বলেছে ৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তখন তাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনটি দেখতে বলেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের প্রতিবেদনে ৬১ জনের প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে।

তখন আমির হোসেন বলেন, তারা জানিয়েছে— তারা পত্রিকায় দিয়েছে। এটা আমার অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এখানে ৩০-৬১ বা যাই হোক মারা গেছে কিনা; মারা যাওয়ার পেছনে প্রথম প্রমাণ কী। মাই লর্ডশিপ তর্ক-যুক্তির খাতিরে ধরেই নিলাম যে শেখ হাসিনার আমলে কেউ কোনো কথাই বলতে পারেনি।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমাদের আইনে বলে দেওয়া হয়েছে পত্রিকার রেফারেন্স আমরা নিতে পারব।

এ প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, রেকর্ড নেওয়ার সুযোগ আছে। আপনি নেবেন। কিন্তু যেসব প্রতিবেদনের কথা বলেছেন সে প্রতিবেদনের বক্তব্যগুলো আপনি গ্রহণ করবেন। দেখবেন, শুনবেন। তবে সেটাকে আপনি বাইবেলের বা আসমানি বাণী হিসেবে নিতে পারবেন না। আপনারা বিবেচনায় নেবেন যে এটা আসলেই সঠিক কিনা। কারণ, ধরে নিলাম ৩০ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর শাপলা চত্বরের এই গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ৩০ নয়, পাঁচজন লোকও কি একটি জিডি করেছেন। পাঁচজন লোক এসে কি বলেছে যে আমার সন্তান ওই সময় মারা গেছে। কোনো লোক এসে বলেছে কি আমার এতিম পুত্রটাকে আমি পাইনি। কোথাও এমন কোনো বক্তব্য পত্রপত্রিকায় আসেনি। 

কোনো মামলা হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে মামলা হয়নি বলে জানান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। তবে, তখন মামলা হয়েছে বলে জানানো হয়।

এমআরআর/এমজে

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালশেখ হাসিনাজুলাই গণঅভ্যুত্থান

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

হানিফের বিরুদ্ধে ফের সাক্ষ্য ৫ এপ্রিল

জুলাই হত্যাকাণ্ডহানিফের বিরুদ্ধে ফের সাক্ষ্য ৫ এপ্রিল

৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, পর্যবেক্ষণে যা বললেন ট্রাইব্যুনাল

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলা৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, পর্যবেক্ষণে যা বললেন ট্রাইব্যুনাল

নানক-তাপসসহ ২৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি ৮ এপ্রিল

জুলাইয়ে মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যানানক-তাপসসহ ২৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি ৮ এপ্রিল

ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় নয় : চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় নয় : চিফ প্রসিকিউটর