৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, পর্যবেক্ষণে যা বললেন ট্রাইব্যুনাল

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৫ মার্চ) এ রায় প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫৯১ পৃষ্ঠার এ রায়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ, শাস্তি নির্ধারণের যুক্তিসহ বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়।
পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হলেও উপস্থাপিত প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে, এ মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামিরা প্রধান পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক উৎস ছিলেন। মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তার জন্য তাদের দায় এসেছে। এছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ আনতে পারেনি প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে যথাযথভাবে প্রমাণ করতে না পারায় অনেকের সাজা কমেছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-২। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত সাতজন হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।
বিজ্ঞাপন
সাত বছরের সাজা পেয়েছেন দুজন। তারা হলেন- এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান। আর খালাস পেয়েছেন সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক। তিনি এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
এমআরআর/এমএসএ