প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শেষ, ফের বৃহস্পতিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
এদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রথমে এ মামলা সম্পর্কিত জাতিসংঘের প্রতিবেদন, ভিডিওসহ নানান তথ্য-উপাত্তের বিবরণ দেন মিজানুল ইসলাম। পরে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়া ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেনের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন। অর্থাৎ ঘটনার দিন তথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না বলে দাবি করে আসামিপক্ষ। ওই দিন টঙ্গীবাড়ি এলাকায় দায়িত্বরত ছিলেন বলে দাবি তাদের। সাফাই সাক্ষ্যেও এমন কথা জানিয়েছেন আরাফাত।
অপরদিকে, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ডিবির এই পরিদর্শক ঘটনাস্থলে ছিলেন দেখিয়ে তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এজন্য আসামিপক্ষের দাবিটি ভুল প্রমাণ করতে এ মামলায় দেওয়া কযেকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের সামনে আনেন মিজানুল ইসলাম। এর মধ্যে ছয় নম্বর সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী মতিবর রহমান, সাত নম্বর সাক্ষী শফিকুল ইসলাম, ১২ নম্বর সাক্ষী কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। তবে আজ শেষ না হওয়ায় বাকি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে, আজ সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন পলাতক রয়েছেন। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।
এর আগে, ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দেন এ মামলার অন্যতম আসামি আরাফাত হোসেন। ৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের জেরা শেষ হয়। টাকা চারদিন তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তিনি এ মামলার সর্বশেষ বা ২৪ নম্বর সাক্ষী।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
এমআরআর/এসএম