সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুলের সোয়া কোটি টাকার জমি ক্রোক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক এবং তার মেয়ে মোশরেফা মৌমিতা হকের নামে বাগেরহাটের ফকিরহাট ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে থাকা এক দশমিক ৭৩ একর জমি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এসব জমির মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। মেয়েকে মহিবুল হকের হেবা দান করা বাগেরহাটের দশমিক ১২৪৩ একর জমিও ক্রোকেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহিবুল হক ও তার স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২১ হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ এসেছে। এসব হিসাবে চার কোটি ৭৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৪ টাকা রয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপ পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক এসব জমি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মহিবুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারসহ নিজ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত/সংগৃহীত তথ্যাদি ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মহিবুল হকের নামে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলা ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় ৬টি দলিল মূলে সর্বমোট ১ দশমিক ৭২৭৭৮ একর ও তার মেয়ে মোশরেকা মৌমিতা হকের নামে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় দশমিক ১২৪৩ একর জমির তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া মহিবুল হকের স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমের নামে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় ২ নম্বর রোডস্থ ১৯০ নং প্লটের ওপর নির্মিত Mamory By Momem ভবনে ২৭০০ স্কয়ার ফিট আয়তন বিশিষ্ট ৫/এ নং ফ্ল্যাট রয়েছে।
এছাড়া ৮টি ব্যাংক/জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে মহিবুল হক ও তার স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমের নামে সর্বমোট ২১টি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় এবং ওই হিসাবগুলোর মোট স্থিতি ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৪ টাকা। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা তাদের নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির পূর্বে তাদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক/জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে তাদের নামীয় হিসাবসমূহে রক্ষিত অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে অনুসন্ধানের ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের জমি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা প্রয়োজন।
এনআর/এসএম