র্যাগিং প্রতিরোধে হেল্পলাইন ও ওয়েবসাইট চালুর নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রকাশ

র্যাগিং প্রতিরোধে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ও ওয়েবসাইট চালুর নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বলে জানান রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এর আগে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র্যাগিং ও বুলিং প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন, যার পূর্ণাঙ্গ কপি আজ প্রকাশিত হয়েছে।
র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান, যিনি মামলার পিটিশনার হিসেবেই নিজে শুনানি পরিচালনা করেন। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং ও বুলিং শিক্ষার্থীদের জীবন, মর্যাদা, মানসিক সুস্থতা ও মৌলিক অধিকারগুলোর ওপর মারাত্মক আঘাত হানে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি শারীরিক নির্যাতন, গভীর মানসিক ট্রমা, যৌন হয়রানি এমনকি আত্মহত্যার কারণ পর্যন্ত হতে পারে, যা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। আদালত ‘Government of Bangladesh vs Professor Nurul Islam’ মামলার রেফারেন্স দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন যে সংবিধানের ‘Right to Life’ কেবল জীবন রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিরাপদ পরিবেশ, স্বাস্থ্য, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং শিক্ষা লাভের সুযোগ নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য।
রায়ে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে এখনো র্যাগিংকে আলাদা অপরাধ হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকলেও দণ্ডবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইনের অধীনে র্যাগিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু কার্যকলাপ ইতোমধ্যেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের Anti-Ragging আইন ও নীতিমালার উদাহরণ টেনে বলেন, এসব দেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
আদালত বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন যে র্যাগিং প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ লক্ষ্যে ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য একটি অ্যান্টি-র্যাগিং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় অ্যান্টি-র্যাগিং ওয়েবসাইট চালু করার ওপর জোর দেন আদালত, যেখানে র্যাগিং সংক্রান্ত অভিযোগ নিবন্ধন করা যাবে এবং গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি ও অবস্থান (status of action taken) সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। আদালত মনে করেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো ভুক্তভোগীদের ভয় কাটিয়ে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করবে।
এছাড়া আদালত সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘Policy for Prevention of Bullying and Ragging in Educational Institution, 2023’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং নির্দেশনা দেন যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী ডিসিপ্লিনারি ও অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি গঠন, জরুরি অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন আদালত, যাতে শিক্ষার্থীদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপদ শিক্ষার অধিকার বাস্তবে সুরক্ষিত হয়।
এমএইচডি/এমএন