টয়োটার এমডিসহ তিন কর্মকর্তাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়ে টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আমিলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ৫ মার্চ তাদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
আসামিরা হলেন, টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালয়েশিয়ার নাগরিক প্রেমিত সিং , টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাপানি নাগরিক আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নাভানা লিমিটেডের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওইদিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির প্রতিষ্ঠান টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের ব্যবসায়িক পার্টনার নাভানা লিমিটেড। নাভানা দীর্ঘদিন ধরে টয়োটা টুশো করপোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য টয়োটা ব্র্যান্ডের একক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তবে অভিযুক্তরা এই একক ডিস্ট্রিবিউটরশিপ ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট বাজার পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে নাভানার সঙ্গে টয়োটার ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
এদিকে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মেলায় গত ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই'র ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের অর্ডার করা যানবাহনের উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেন। পাশাপাশি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ সরবরাহ না করে নাভানার স্বাভাবিক আমদানি ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে নাভানা লিমিটেড আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। একই সঙ্গে কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা ও জরিমানার ঝুঁকিতে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
এনআর/এমএসএ