মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা চেয়ে আবেদন

অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ/হুক্কা বার’ নামক মাদক স্পট বন্ধ, মাঠ প্রশাসনের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ঠিকানায় এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু আবেদনটি পাঠিয়েছেন।
আনেদনে বলা হয়, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা, একটি সুস্থ ও নৈতিক জাতি গঠন এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আপনার দৃঢ় অবস্থান, জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য জাতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনার দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে দেশ শুদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে—যা জাতির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাজধানীর বনানী, গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘সিসা লাউঞ্জ’ বা ‘হুক্কা বার’ নামের আড়ালে প্রকাশ্যে সিসা ও অন্যান্য মাদকীয় উপাদান সেবন ও সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা যুবসমাজকে দ্রুত নেশাগ্রস্ত করে তুলছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা বা হুক্কার ধোঁয়ায় নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড ও বহু বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক রোগ ও স্নায়বিক জটিলতা সৃষ্টি করে। এটি শুধু ব্যক্তি নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্যও এক গুরুতর হুমকি।
এছাড়াও, অভিযোগ রয়েছে—কিছু অসাধু মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সিসা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ঘুষ ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পূর্ববর্তী অভিযানের সুফল নষ্ট হচ্ছে এবং মাদক কারবারিরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে—যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিভিন্ন রায়ে সুস্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ দমনে কোনো প্রকার শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য।
আপনার প্রত্যক্ষ, কঠোর ও সময়োপযোগী নির্দেশনাই পারে এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদক বাণিজ্যের অপচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে।
আবেদনে মাদক নির্মূলে ৫টি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা চাওয়া হয়। সেগুলো হলো—
১. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হোক।
২. বনানী, গুলশানসহ সারাদেশে অনুমোদনবিহীন সকল সিসা লাউঞ্জ/হুক্কা বার ও সংশ্লিষ্ট মাদক স্পটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক, ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করা হোক।
৩. সিসা/হুক্কা আমদানি, সরবরাহ ও বিপণনের মূল উৎস শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৪. মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণকারী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শনাক্ত করে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা নিশ্চিত করা হোক।
৫. অভিযান-পরবর্তী কঠোর মনিটরিং, নিয়মিত পরিদর্শন ও জবাবদিহিতা ব্যবস্থা কার্যকর করা হোক, যাতে পুনরায় কোনো মাদক স্পট চালু না হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়, ন্যায়নিষ্ঠ ও যুগোপযোগী পদক্ষেপই পারে দেশ ও যুবসমাজকে সিসা ও মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে পারে বলে আবেদনে বলা হয়।
এমএইচডি/এমএন