বিজ্ঞাপন

‘যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও দেশে সই! যেভাবে শত কোটির সম্পদ আত্মসাৎ’

সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘ঢাকা পোস্ট’ অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘আইন আদালত’ বিভাগে “যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও দেশে সই! যেভাবে শত কোটির সম্পদ আত্মসাৎ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আহমাদ সালমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপি

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, “আপনার বহুল প্রচারিত 'ঢাকা পোস্ট' অনলাইন নিউজ পোর্টালে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে 'আইন আদালত' বিভাগে “যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও দেশে সই! যেভাবে শত কোটির সম্পদ আত্মসাৎ” শীর্ষক যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটিতে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অধ্যাপক ডক্টর আবুল কালাম মোহাম্মদ সদরুল ইসলাম এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও সম্পত্তি আত্মসাতের যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

একটি বিচারাধীন মামলায় (যেটি এখনও আমলে নেওয়া হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে কি না,তার শুনানি অপেক্ষমান) এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর। এতে আদালতের অবমাননা হয়েছে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের ও সম্মানিত পরিচালকবৃন্দের সুনাম, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি নিম্নে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছি:

১. প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, “ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ছয় জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ভুয়া অডিট রিপোর্ট তৈরি ও কর ফাঁকি” দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইবনে সিনা ফার্মা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দেশের প্রচলিত আইন মেনে যাবতীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং ইবনে সিনা দেশের স্বাস্থ্য সেবা, ওষুধশিল্পে অবদান রাখার মাধ্যমে অর্থনীতিতে ও সরকারের রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে;

২. দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এই কোম্পানি ১৯৮৩ সনে যাত্রালগ্ন হতে দেশের নাগরিকগণের স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থ-মানবতার সেবায় অবদান রেখে আসছে। দেশে ও বিদেশে এই কোম্পানির একটি সুনাম ও ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে। যা কোম্পানির চলার পথের পবিত্র পাথেয় এবং উন্নয়নের মৌলিক নিয়ামক শক্তি;

৩. মিসেস কানিজ ফাতেমা কর্তৃক দায়েরকৃত মামলাটি বর্তমানে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা আদালতে বিচারাধীন (Sub judice) রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে যে, বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার একরামুল হক বিজ্ঞ বিচারকের বিরুদ্ধে "নিয়মবহির্ভূত শুনানীর অভিযোগ তুলে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকা” প্রকাশ করেছেন। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, নজিরবিহীন এবং সরাসরি আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শামিল। আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবীগন তা যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতের নজরে নিয়ে আসবেন;

৪. বিজ্ঞ আদালতে যে মামলায় এখনো কগনিজেন্স নেওয়া হয়নি, সেই মামলার বিষয়বস্তু, আদালতের সুনাম খ্যাতি ইত্যাদিতে হস্তক্ষেপ করে প্রতিবেদক, সম্পাদক ও প্রকাশক চরম মাত্রায় পেশাগত অসাধাচরণ করেছেন। প্রয়োজনে যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালত ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে শরণাপন্ন হয়ে আমরা এর যথাযথ প্রতিকার প্রার্থনা করব;

৫. আপনার প্রকাশিত প্রতিবেদনের এক জায়গায় বলা হয়েছে “জালিয়াতির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় ২০.৮৩ কাঠার মূল শিল্পপ্লটটি কেনায় অংশ নেয় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস”। দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লি. জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিক্রয় অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে (স্মারক নং: জাগৃক/ভূসব্য/এম.পি-৯১/৮১/৮৭২২, তারিখ: ১৯.০৭.২০১৮) গত ১৪.০৮.২০১৮/১৬.০৮.২০১৮ তারিখে সাব রেজিস্ট্রি অফিস, মিরপুরে ৬৯৮৫নং সাফ কবলা দলিল মূলে উল্লিখিত শিল্প প্লট 'হোটেল খাওয়া দাওয়া' আলাউদ্দিন সুইটমিট এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুম থেকে মালিকানা অর্জন করেন।

ইবনে সিনা সরল বিশ্বাসে, যথাযথ পণ মূল্যে উক্ত জমি খরিদ করেছেন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা হিসেবে বিক্রেতার সরবরাহকৃত কাগজাদির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়;

৬. ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষের সাথে উক্ত জমি বিক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান থাকা কালেই আলাউদ্দিন সুইটমিট লিমিটেড এর তৎকালীন বোর্ড আমাদের অগোচরে কোম্পানী অবসায়নের কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং বিগত ২৮শে জুন, ২০১৮ তারিখে নিবন্ধক গেজেট প্রকাশ করে কোম্পানির চূড়ান্ত অবসান ঘটান (Winding Up/Liquidation)। এই সমস্ত কিছু ঘটেছে আমাদের অগোচরে। আমরা যথাযথ মূল্যের বিনিময়ে জমির ক্রেতা মাত্র।

৭. জমি ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসায়িক রূপান্তরের যাবতীয় প্রক্রিয়ায় সরকারের নির্ধারিত ফি দিয়ে এবং দেশের প্রচলিত আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে। বাদীপক্ষ মামলাটিকে চাঞ্চল্যকর করতে এবং বেআইনি সুবিধা হাসিল করতে কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে আর্থিক ক্ষতির হিসাব দাঁড় করিয়েছে। এটি একেবারেই অনভিপ্রেত।

৮. একটি বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান এমনকি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালত কর্তৃক গ্রহণ করার আগেই কিংবা মামলা আমলে নেওয়ার আগেই সিআইডি-এর প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের খণ্ডিত ও অসমর্থিত বরাতে কাউকে “আত্মসাৎকারী” বা “অপরাধী” হিসেবে সাব্যস্ত করে একতরফা সংবাদ প্রকাশ করা ফৌজদারী অপরাধ ও বটে। এটি চরম গর্হিত ও নীতি বহির্ভূত কাজ। সাংবাদিকতার প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির বাইরে এমন সংবাদ পরিবেশন বেআইনি। এতে উল্লেখিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও আমাদের প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সুনাম ও খ্যাতির মারাত্মক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যার জন্য দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা আনয়ন করা যায়;

অতএব, পাঠকের প্রকৃত সত্য জানার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে, আমাদের এই প্রতিবাদলিপিটি হুবহু আপনার অনলাইন নিউজ পোর্টালে যথাযথ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”

প্রতিবেদকের বক্তব্য 

প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে মামলার নথি ও আদালতের নির্দেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক কর্তৃক দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রতিবেদকের কোনো নিজস্ব মতামত বা মন্তব্য যুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যও হুবহু ও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, যা মূল সংবাদেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্যও প্রতিবেদনে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অতএব, সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বস্তুনিষ্ঠতার ঘাটতি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশনের সুযোগ ছিল না।

এমএআর/

বিজ্ঞাপন