গর্ভাবস্থায় যে ৫ ভুল করা যাবে না
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্যে একটি। এটি উত্তেজনা, পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের একটি দীর্ঘ তালিকা নিয়ে আসে যা সরাসরি মা এবং শিশু উভয়কেই প্রভাবিত করে। যদিও বেশিরভাগ নারীই সবকিছু সঠিকভাবে করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন, তবুও কিছু সাধারণ ভুল ঘটে। বেশিরভাগই ঘটে ভুল তথ্য, ভয় বা সামাজিক চাপের কারণে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েদের অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা মাতৃ এবং ভ্রূণ উভয়ের সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থায় কোন ভুলগুলো করা যাবে না
১. প্রসবপূর্ব চেকআপ বাদ দেওয়া বা বিলম্বিত করা
সবচেয়ে সাধারণ ভুলের একটি হলো নিয়মিত প্রসবপূর্ব চেকআপ মিস করা, বিশেষ করে প্রথম এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। এই পরীক্ষাগুলো শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশ, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস বা গর্ভাবস্থাজনিত উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করতে সাহায্য করে। এগুলো সময়মতো সনাক্ত করা গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে যে মা এবং শিশু উভয়ই গর্ভাবস্থায় সুস্থ পথে আছে।
২. পুষ্টি উপেক্ষা করা বা যাচাই না করা ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ করা
গর্ভাবস্থা মানে দু’জনের জন্য খাওয়া নয়, বরং দু’জনের জন্য সঠিক খাবার খাওয়া। অনেক মহিলা হয় ওজন বৃদ্ধির ভয়ে খাবার সীমিত করেন অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ করেন।গর্ভাবস্থায় পুষ্টির অভাবে রক্তস্বল্পতা, শিশুর কম ওজন, ভ্রূণের বৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সহ সুষম খাদ্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিতে হবে। খাদ্যতালিকায় যেকোনো বড় পরিবর্তন করার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

৩. পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার
গর্ভাবস্থায় আরেকটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া। অনেক ওষুধ, ভেষজ সম্পূরক এবং ঘরোয়া প্রতিকার উপকারী মনে হতে পারে কিন্তু গর্ভাবস্থায় অনিরাপদ হতে পারে। কিছু ওষুধ প্লাসেন্টা অতিক্রম করতে পারে। প্রাকৃতিক মানে সবসময় নিরাপদ নয়। এমনকী সাধারণ ব্যথানাশক বা ঠান্ডা লাগার ওষুধ খাওয়ার আগেও চিকিৎসকের অনুমোদন প্রয়োজন।
৩. সম্পূর্ণরূপে শারীরিক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলা
অনেক গর্ভবতী মা বিশ্বাস করেন যে সম্পূর্ণ বিশ্রাম সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করে। চিকিৎসাগত প্রতিবন্ধকতা না থাকলে, মাঝারি শারীরিক কার্যকলাপ উপকারী। নিরাপদ কার্যকলাপের মধ্যে থাকতে পারে- হাঁটা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম, মৃদু স্ট্রেচিং। নিয়মিত নড়াচড়া রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, পিঠের ব্যথা কমায়, ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, ক্লান্তি এবং অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা
গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। গর্ভাবস্থা সম্পর্কিত উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক চাপ স্বাভাবিক মনে করে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ মাতৃত্বকালীন সুস্থতা, ঘুমের মান, হরমোনের ভারসাম্য ইত্যাদিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ডাক্তারের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে হবে।
এইচএন
