প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া যাবে?
কলা বেশ উপকারী একটি ফল। বছরের বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ফলের দাম যখন আকাশছোঁয়া হয়; তখন কলা মোটামুটি সহজলভ্যই থাকে বলা যায়। এটি বাজেট-বান্ধব এবং পুষ্টিকর ফলের মধ্যে একটি। আপনি যদি দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করতে চান অথবা আপনার হজমশক্তি উন্নত করার চেষ্টা করেন, এই ফলটি আপনার জন্য সেরা হতে পারে।
কলার পুষ্টিগুণ
কলা একটি পুষ্টিকর ফল যা শরীরকে শক্তির প্রাকৃতিক উৎস সরবরাহ করে। এই ফলটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজের একটি ভারো উৎস যা আমাদের সিস্টেমকে শক্তিশালী এবং মসৃণভাবে পরিচালনা করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রয়োজনীয় জটিল স্টার্চ থাকে যা শক্তির দ্রুত উৎস হিসেবে কাজ করে।
কলা সুস্থ হজমের জন্য খাদ্যতালিকাগত ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ প্রদান করে, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থেও সমৃদ্ধ, যদিও এতে প্রাকৃতিকভাবে চর্বি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে।

প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া উচিত?
কলা স্বাস্থ্যকর হলেও, বেশি সবসময় ভালো হয় না। বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, সুষম খাবার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন দুটি কলা খাওয়া নিরাপদ এবং উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে পরিমিত খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা সহজেই শক্তি পূরণের জন্য দিনে দুটি কলা খেতে পারেন, তবে স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা থাকলে তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডাক্তাররা কলা খাওয়ার পরিমাণ সীমিত করার পরামর্শ দেন। এর কারণ হলো এতে থাকা চিনির পরিমাণ, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং উচ্চ পটাসিয়ামের মাত্রা, যা কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসকারী ব্যক্তিদের জন্য কষ্টকর হতে পারে।
প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা
কলায় থাকা ফাইবার এবং পেকটিন নামক স্টার্চ অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা কমাতে পারে যা হজমের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এই ফল তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।
কলায় থাকা পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য। কলা ভিটামিন বি৬-তেও সমৃদ্ধ, যা শরীরের ভালো লাগার হরমোন সেরোটোনিন এবং ডোপামিন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে।
এইচএন
