পড়তে হবে মা-বাবাকেও
পুথিগত বিদ্যা হলো কর্ম জীবনে প্রবেশ করার সিঁড়ি। শুধুমাত্র পুঁথিগত লেখাপড়া দিয়ে মানুষ জীবনে সফল হতে পারে না। এর পাশাপাশি প্রতিটি মানুষকে ভালো মানের বই, পত্রিকা ইত্যাদি পড়ার চেষ্টা করতে হবে। একটি ভালো মানের বই জীবনের অনেক বড় একটি দিক নির্দেশনা। বাবা মা, অভিাবককে নিয়মিত বই পড়ার চেষ্টা করতে হবে।
আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাবা নামের মানুষটিকে জীবিকার প্রয়োজনে অধিকাংশ সময়ে বাসার বাইরে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমাদের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে মা বাসার বাইরে চাকুরি বা ব্যবসা করলেও গৃহস্থালী কাজগুলো তাকেই সামলাতে হয় বেশি। আর জন্মগত কারণে অধিকাংশ শিশু মানসিকভাবে তার বাবার চেয়ে তার মায়ের প্রতি নির্ভরশীল হয় বেশি।
একজন মায়ের আচরণ, চিন্তা চেতনা, জীবন দর্শন, তার ভালো ও মন্দ লাগাগুলো সন্তানকে প্রভাবিত করে খুব বেশি। বাবা-মাসহ পরিবারের সব সদস্যর কাছে থেকেই সন্তান শেখে অনেক কিছু। শিশু-কিশোররা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে চারপাশের পরিবেশ থেকে জ্ঞান অর্জন করে সবচাইতে বেশি। বাবার চেয়ে মা বা যার কাছে শিশু কিশোর দিনের অধিকাংশ সময়ে বড় হচ্ছে, সেই মানুষটিকে বাস্তবতা ও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে।
মা-বাবাকে নিয়মিত খবরের কাগজ, সমাজ সচেতনতা বিষয়ক লেখা পড়তে হবে। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি অবশ্যই জানতে হবে। কেউ রাজনীতিতে যুক্ত হলেই শুধুমাত্র তাকে রাজনীতি জানতে হবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পৃথিবীটা কোন দিকে যাচ্ছে, বাস্তবতা কী বলছে, আমরা কোন দিকে যাচ্ছি, এই বিষয়গুলো প্রতিটি বাবা-মাকে জানতে হবে। তাহলে আমরা বাস্তববাদী হয়ে আমাদের সন্তানকে গড়তে পারবো।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে বাস্তবতাকে প্রধান্য দেয়া উচিৎ। অসংখ্য বাবা-মাকে অচেনা অজানা গৃহকর্মীর কাছে সন্তানকে রেখে অফিসে কাজ করতে দেখা যায়। নতুন একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার কাছে সন্তানকে বাসায় একা পড়াতে দেয়া অনুচিৎ। নতুন একজন মানুষকে বুঝতে আমাদের কিছুটা সময় দরকার।

আমাদের চারপাশের পরিবেশে ভালো-খারাপ দুই ধরনের মানুষই আছে। কে ভালো কে খারাপ এইটা বুঝতে পারার আগেই আমাদের কোনো বিপদ হয়ে যেতে পারে। এই জন্য অবশ্যই মা বাবাকে সচেতন হতে হবে। বাসায় যদি খুব বিশ্বস্ত কোন গৃহকর্মীর কাছে আপনার সন্তান বড় হয়, তাহলে অবশ্যই গৃহকর্মী কোন ধরনের ভাষা ব্যবহার করে, তার আচরণ কেমন, চিন্তা চেতনা কোন ধরনের, এই বিষয়ে মা বাবাকে মনোযোগ দিতে হবে।
কোনো অপরিচিত নারী-পুরুষের সঙ্গে সন্তানকে ছাদে একা রেখে দেয়া, অপরিচিত কারো সঙ্গে লিফটে ওঠা থেকে বিরত থাকতে বলতে হবে। ইন্টারনেটের মিস্ত্রী, গ্যাস এর লাইন চেক করতে চায়, তেলাপোকা মারার ওষুধ দিতে আসা অচেনা অজানা মানুষজনকে একাকী বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া অনুচিৎ। সব মানুষই খারাপ নয়। কিন্তু নতুন একজন মানুষের বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
আমাদের সমাজে বাবার তুলনায় মায়েরা ঘরে থাকেন বেশি সময়। মাকে গুগল, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যতোটা সম্ভব দেশের খরব জানতে হবে। তাহলে বাস্তবতা ও দেশের খবরগুলো জানা যাবে। তবে আজকাল অসংখ্য মিথ্যা নিউজ খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়। না জেনে না বুঝে সেসব নিউজ শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বাসার নতুন কাজের মানুষ, কেয়ারটেকার সেই বিষয়েও সচেতন থাকাটা ভীষণ জরুরি।
মুদ্রিত গল্পের বই আমাদের মস্তিস্কের জন্য ভীষণ উপকারী। চারদিকে কার্টুন, ভিডিও গেমের অতিমাত্রায় সহজলভ্যতার জন্য ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে মুদ্রিত বই পড়তে চায় না। বড়দের মাঝেও বই পড়ার প্রবণতা আগের তুলনায় কমে আসছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইন্টারনেট। কিন্তু ডিজিটাল এই যুগেও বই পড়ার চেষ্টা করতে হবে।
শিশু কিশোররা মুদ্রিত বই পড়তে না চাইলে মা বাবা সন্তানকে বই পড়ে শোনাতে হবে। মুদ্রিত বই আমাদের মস্তিস্কের স্নায়ুর জন্য ভীষণ উপকারী। শরীরচর্চা করলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পায়। ঠিক তেমনি নিয়মিত মুদ্রিত বই পড়লে চিন্তা শক্তি, স্মৃতি শক্তি ও মেধা বৃদ্ধি পায়। গল্পের বই নিয়মিত কেনা সম্ভব না হলে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাগার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে কাজের ফাঁকে নিয়মিত মুদ্রিত বই পড়ার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের চোখের জন্য ই-বুকের পরিবর্তে মুদ্রিত বই এর উপকারিতা অনেক বেশি।
এইচএন
