ঈদের পরে কী খাবেন?
ঈদের পরে কয়েকদিন ব্যস্ততা ও ঘোরাঘুরিতে কেটে যায়। আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে দাওয়াত, অনেক ভারী আর মসলাদার খাবারের সমারোহ তো থাকেই। সেসব থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা মুশকিল। নানা মুখরোচক খাবারের প্রলোভন কে-ই বা ছাড়তে পারে! তবে ঈদের পরে আপনাকে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। একটানা ভারী খাবার খেতে থাকলে আপনার পেট বাধ্য হয়ে বিদ্রোহ করে বসতে পারে!
বিজ্ঞাপন
উৎসবের ভারী খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি এবং হজমে সহায়ক হালকা খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে বদহজম এড়ানো যায়। খেজুর, তাজা ফল এবং পানি-সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে শুরু করুন। সেমাই এবং মাংসের পদের মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে সালাদ ও স্যুপের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
শরীরকে আর্দ্র রাখে এমন খাবার খাবার বেশি খেতে হবে এসময়। টানা রোজা রাখার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। সেই পানিশূন্যতা রোধ করতে পানি, ডাবের পানি, লেবুর রস, আখের রস এবং তাজা ফলের স্মুদি ইত্যাদি রাখুন খাবারের তালিকায়। শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হলে অন্যসব রোগ থেকে দূরে থাকাও সহজ হবে।

হালকা ও পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার বেছে নিন। হজম সহজ করতে সবজির স্যুপ, দই এবং তাজা ফলের সালাদ নিয়মিত খান। শুধু খেতে ভালোলাগে বলেই ভারী বা মসলাদার খাবার অনেক বেশি খেয়ে ফেলবেন না। তাতে আপনার শরীর নেতিবাচক উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বিজ্ঞাপন
প্রোটিন-ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের তালিকা তৈরি করুন। অস্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ সীমিত করতে ভাজা খাবারের পরিবর্তে গ্রিল করা মুরগি, মাছ বা ভাপে রান্না করা খাবার খান। এতে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি তো পূরণ হবেই, সেইসঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ঝুঁকিও কমবে। তাই এভাবে রান্না করা খাবার বেছে নিন।
ধীরে ধীরে পুনরায় খাওয়া শুরু করুন। রোজা শেষ বলেই খাবারের ওপর হামলে পড়বেন না যেন! পেট ফাঁপা এবং হজমের সমস্যা এড়াতে সরাসরি উচ্চ-চর্বিযুক্ত বা চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ধীরে ধীরে আপনার খাবারের রুটিনে ফিরে আসুন। মনে রাখবেন, যেকোনো অভ্যাসের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে আমাদের শরীরকে সময় দেওয়াটা জরুরি।
এইচএন
