বইমেলায় সেলিম আহমেদের ‘১৯৪৭ : কাঁটাতারে বিভক্ত সিলেট’

১৯৪৭ সাল, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান, দেশ ভাগ, পাকিস্তান ও ভারত আলাদা রাষ্ট্র। যুগান্তকারী বছরটি সিলেটের ইতিহাসে আরও বেশি গুরুত্ববহ। এই অঞ্চল কোন দিকে থাকবে- ভারত না পাকিস্তানে? সিদ্ধান্তহীন বিষয়ের সমাধানে আয়োজিত হয় গণভোট। সেই ভোটে পাকিস্তানের সঙ্গে থাকার জন্য রায় এলেও পুরো সিলেট পাকিস্তানের হয়নি। গণভোটের পটভূমি, সিলেটভাগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সেলিম আহমেদ লিখেছেন গবেষণাধর্মী বই ‘১৯৪৭ : কাঁটাতারে বিভক্ত সিলেট’।
বইটি এবারের বইমেলায় প্রকাশ করেছে কথক প্রকাশনী। পাওয়া যাচ্ছে মেলার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে টাঙ্গন প্রকাশনীর (স্টল নং-৫১৮) স্টলে। বইটির মুদ্রিত মূল্য ৩'শ টাকা। তবে ২৫ শতাংশ ছাড়ে ২২৫ টাকায় মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বইটি। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন নন্দিত শিল্পী ধ্রুব এষ।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কথক প্রকাশনী জানায়, দেশভাগের সময় বর্তমান ভারতের করিমগঞ্জসহ (শ্রীভূমি) পাঁচটি মহকুমা ছিল সিলেট জেলায়। গণভোটে সিলেটের মানুষ পাকিস্তানের পক্ষে রায় দেয়। করিমগঞ্জসহ সিলেটের পাঁচ মহকুমায় উঠে পাকিস্তানের পতাকা। সেই পতাকা করিমগঞ্জে স্থায়ী হয়নি বেশিদিন। কারণ করিমগঞ্জসহ সাড়ে তিন থানাকে রেখে দেওয়া হয় ওপারে। এরপর সিলেটের মানচিত্রে বসে কাঁটাতারের বেড়া, সিলেটিরা ভাগ হয়ে পড়ে দুই দেশে। কেন করিমগঞ্জসহ এই সাড়ে তিন থানাকে ভারতে রাখা হয়েছিল তা বিষদভাবে আলোচিত হয়েছে বইটিতে।
গণভোট ও সিলেটভাগ ছাড়াও বইটি উঠে এসেছে, ঐতিহাসিক বা নৃতাত্ত্বিক কারণ না থাকা সত্ত্বেও সিলেটকে কেন আসামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, দেশ ভাগের আগ পর্যন্ত আসাম থেকে ফেরার আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো— এসব নানা প্রশ্নের উত্তর, সিলেটভাগ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থা, দুই দেশে ভাগ হওয়া সিলেটিদের আক্ষেপ, তৎকালীন সমাজ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সিলেটের গৌরবোজ্জ্বল অতীত।
১৯৪৭ : কাঁটাতারে বিভক্ত সিলেট বইটির লেখক সেলিম আহমেদ বলেন, সিলেটভাগের ইতিহাসকে নতুনভাবে জানার জন্য বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এক মলাটে সিলেট নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বলে আশাবাদি আমি।
বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন সরকারের সাবেক সচিব, কবি মোফাজ্জল করিম। তিনি লিখেছেন, বর্তমান সিলেটের জন্ম-ইতিহাস নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক। এটা বর্তমান প্রজন্মের অজানা। সেলিম আহমেদ এই বইটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।