বইমেলায় রিদওয়ান আক্রামের ‘পুনশ্চ ঢাকা’

ঢাকার চারশ বছরের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা অজানা গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গবেষক ও সাংবাদিক রিদওয়ান আক্রামের নতুন বই ‘পুনশ্চ ঢাকা’। বইটি পাওয়া যাচ্ছে একুশে বইমেলায়। বইটি প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ।
ঢাকাকে ঘিরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়। শহরটি বার বার ফিরে আসে তার অতীতের নানা স্মৃতি নিয়ে। কখনো সেই গল্পে উঠে আসে এক সময়ের জৌলুস, আবার কখনো পাওয়া যায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো নগরের কথা। গল্পের মতো শোনালেও এসবই ইতিহাসের অংশ। সেই ইতিহাসের ভেতর থেকেই ঢাকার সমাজ ও সংস্কৃতির নানা দিক অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। মূলত চার শতকের ঢাকার নানা দিক এতে তুলে ধরা হয়েছে।
পাঠকের কথা মাথায় রেখে বইটির লেখাগুলো সাজানো হয়েছে কয়েকটি বিভাগে। এর মধ্যে রয়েছে ‘প্রতিষ্ঠাতা’, ‘যানবাহন’, ‘উৎসব’, ‘প্রশাসন’, ‘হারানো পেশা’, ‘চিত্রকলা’, ‘লড়াই’, ‘নিসর্গ’ এবং ‘অতিথি’।
বইটির প্রথম রচনা ‘মোগল রাজধানী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতার সমাধির খোঁজে’। এতে মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁ চিশতির জীবন, মৃত্যু এবং সমাধি নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের বিবরণ রয়েছে। ঢাকাকে মোগল সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পেছনে ইসলাম খাঁ চিশতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তাকে নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম গবেষণা হয়েছে বলে মনে করেন লেখক।
তার লেখায় ইসলাম খাঁর মৃত্যুর ঘটনা, গাজীপুরের ভাওয়ালের বনে তার শেষ সময়, এবং মৃত্যুর পর তার মরদেহ কীভাবে ঢাকা থেকে প্রায় ১৭০৬ কিলোমিটার দূরের ফতেহপুর সিক্রিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। মোগল সেনাপতি মির্জা নাথানের রচিত বাহারিস্তান-ই-গায়বি গ্রন্থে ইসলাম খাঁর মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত বিবরণকে সূত্র ধরে দুইজন চিকিৎসকের মতামত বিশ্লেষণ করে তার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন লেখক।
এছাড়া ইসলাম খাঁর মরদেহ ঢাকায় আনার পথে কোথায় শোকাচার পালন করা হয়েছিল, ‘বাগ-ই-শাহি’ নামে পরিচিত যে স্থানে তাকে প্রথম দাফন করা হয় সেটি কোথায় ছিল, কতদিন সেখানে তার মরদেহ রাখা হয়েছিল এবং পরে কেন কীভাবে ফতেহপুর সিক্রিতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসব বিষয়ও আলোচনায় ওঠে এসেছে।
বইটির দ্বিতীয় রচনা ‘হাওয়ার গাড়ি চইল্লা গেল...’, যা ‘যানবাহন’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত। ঢাকার কোচোয়ান ও ঘোড়ার গাড়ির ইতিহাস নিয়ে এই লেখাটি আগে ‘ঢাকার কোচোয়ানরা কোথায়’ শিরোনামে লেখকের দ্বিতীয় বইয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে নতুন তথ্য যুক্ত করে সেটি বিস্তৃত করা হয়েছে।
বইটির বেশ কয়েকটি লেখা বিভিন্ন সময়ে দেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ২০১১ সালের ইত্তেফাক ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত ‘ঢাকার নৌযান’, সমকাল ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত ‘ঢাকায় কোরবানির ঈদ’ এবং ২০১০ সালে দৈনিক কালের কণ্ঠ–এ প্রকাশিত কয়েকটি লেখা। ঢাকার রাজধানী হওয়ার চারশ বছর পূর্তি উপলক্ষে সে সময় প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাগুলোতে ‘রেনেলের ঢাকা’ ও ‘ঢাকার অদেখা ছবি’ শিরোনামের লেখাও স্থান পেয়েছিল।
বইটির লেখার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোকচিত্রও সংযোজন করা হয়েছে। ছবিগুলোর অধিকাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে ব্রিটিশ লাইব্রেরির আর্কাইভ থেকে। এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের প্রকাশনা আলোকচিত্রে সেকালের ঢাকা, এফ বি ব্র্যাডলি-বার্টের ‘দ্য রোমান্স অব এন ইস্টার্ন ক্যাপিটাল’, দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন পরিচালিত ‘দ্য সুলভিনস প্রজেক্ট’, উইকিপিডিয়া, ‘দ্য ডায়েরি অব উইলিয়াম হেজেস, (আফটারওয়ার্ডস স্যার উইলিয়াম হেজেস), ডিওরিং হিজ এজেন্সি ইন বেঙ্গল: এজ ওয়েল এজ অন ইজ ভয়েজ আউট অ্যান্ড রিটার্ন ওভারল্যান্ড (১৬৮১-১৬৯৭) (ভলিউম-১)’, বাংলাদেশ ওল্ড ফটো আর্কাইভ’, ‘দ্য গ্রাফিক’, ‘দ্য ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছবি নেওয়া হয়েছে।