সবুজবাগে তানিয়া হত্যা

এসি মেরামতের নাটক সাজিয়ে ঘরে ঢুকেছিল ডাকাত

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৯ মার্চ ২০২২, ০৮:৫৫ পিএম


এসি মেরামতের নাটক সাজিয়ে ঘরে ঢুকেছিল ডাকাত

পুলিশ বলছে, আগেও বিভিন্ন বাসায় একইভাবে ডাকাতি করেছে তারা

রাজধানীর সবুজবাগে তানিয়া আফরোজকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলছে, এসি মেরামতের নাটক নাজিয়ে ঘরে ঢুকে ডাকাতি করছিল তারা। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ার কারণে হত্যা করা হয় তানিয়াকে। 

পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা হলো- এসি মেরামতকারী বাপ্পি, সুমন হোসেন হৃদয়‌ ও রুবেল। ‌

গত শনিবার বিকেলে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও বেগুনবাড়ি এলাকায় নিজ বাসা থেকে তানিয়া আফরোজ মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায়, ঘাড়ে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। 

পুলিশ বলছে, তানিয়া আফরোজকে প্রথমে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। পরে তার মাথায় ও পিঠে তিনটি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা। ‌

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পল্টন থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথমে বাপ্পিকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেল ও হৃদয়কে রাজধানীর রামপুরা থেকে গ্রেফতার করা হয়।   

পুলিশের দাবি, এসি মেরামতের নামে বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ডাকাতি করা তাদের নেশা। কোথাও বাধা পেলে হাত-পা বেঁধে, কখনো হুমকি দিয়ে ডাকাতির কাজ সংঘটিত করে পালিয়ে যেতো তারা। ‌

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
সবুজবাগে তানিয়াকে হত্যার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আব্দুল আহাদ বলেন, বেগুনবাড়ী দাগ মাষ্টার বাড়ি রোডের একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ময়নুল ইসলাম। তিনি স্ত্রী তানিয়া আফরোজ ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে সে বাসায় বসবাস করেন। ময়নুল ইসলাম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেকনোলোজিস্ট পদে চাকরি করেন। গত ২২ মার্চ ময়নুল ইসলাম কর্মস্থলে যান। ২৬ মার্চ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পূর্ব পরিচিত এসি মেরামতকারী বাপ্পী, তার সহকর্মী সুমন হোসেন হৃদয়কে নিয়ে ময়নুল ইসলামের বাসার নিচে আসে। বাসায় আগেও এসির কাজ করার সুবাদে বাপ্পীকে চিনতে পারেন তানিয়া।   

আব্দুল আহাদ আরও বলেন এরপর স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে বাপ্পী ও হৃদয়কে নিয়ে বাসায় যান তানিয়া। বাসায় ঢুকে বাপ্পি ও হৃদয় প্রথম আধা ঘণ্টা এসি মেরামত করতে থাকে। একপর্যায়ে বাপ্পি নিচে নেমে জিআই তার ও আরেক সহযোগী রুবেলকে নিয়ে ফেরে। রুবেলকে দেখে তার বিষয়ে বাপ্পির কাছে জানতে চান তানিয়া। বাপ্পি তখন জানায়, রুবেল তাদের সাথে এসি মেরামতের কাজ করতে এসেছে। ‌তানিয়া রুবেলকে একটি চেয়ারে বসতে দিয়ে ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। 

তিনি আরও জানান, রান্নাবান্না আর কাজের ফাঁকে এসির কাজের তদারকি করতে থাকেন তানিয়া। একসময় তিনি দেখতে পান বাপ্পি ও রুবেল ঘরের আলমারি খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করছে। তখন তিনি জোরে চিৎকার দেন। 

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ

তার চিৎকারের পরই রুবেল তানিয়ার মুখ চেপে ধরে বালিশ চাপা দেয়। এসময় বাপ্পি তার ব্যাগে থাকা চাপাতি বের করে তানিয়ার মাথায় ও ঘাড়ে তিনটি কোপ এবং পিঠে একটি কোপ মারে। এতে নিস্তেজ হয়ে পড়েন তানিয়া। হত্যার এ দৃশ্য তানিয়ার মেয়ে মাইমুনা জাহান দেখে ফেলে কান্না শুরু করে। তার সাথে কান্না শুরু করে ১০ মাসের বাচ্চা তানভীরুল ইসলামও। হত্যাকারীরা স্কচটেপ দিয়ে তাদের মুখ বেঁধে দেয়। পরে তাদের হাত-পাও বেঁধে রাখে তারা। 

এরপর হত্যাকারীরা আলমারি থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেয় এবং তানিয়ার কানে থাকা দুল, মেয়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। ‌‌

আব্দুল আহাদ বলেন, তারা মূলত বাসায় এসেছিল ডাকাতির উদ্দেশ্যে। এসি মেরামত করা তাদের একটি নাটক ছিল। এর আগে বাপ্পি এসি মেরামতের নামে আরও কয়েকটি বাসায় এমন ডাকাতি করেছে বলে জানিয়েছে। ‌

ডিসি আহাদ বলেন, লুণ্ঠিত আরও মালামাল ও আলামত উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে বাপ্পির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

জেইউ/এনএফ/,জেএস

Link copied