পিকে হালদারকে ফেরাতে ভারত যাবে আন্তঃমন্ত্রণালয় টিম

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৯ মে ২০২২, ০৫:৫৬ পিএম


পিকে হালদারকে ফেরাতে ভারত যাবে আন্তঃমন্ত্রণালয় টিম

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি ও পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি টিমকে ভারতে পাঠানো হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, পিকে হালদারকে ফেরাতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করি। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ জরুরি বৈঠক ডাকে। যেখানে আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করি।

সাঈদ মাহবুব খান বলেন, পিকে হালদারকে ফেরানোর বহিঃসমর্পন যে আইন বিদ্যমান রয়েছে, তার সমস্ত আইন বিধির দ্বারা কীভাবে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। তাকে ফেরত আনতে যে সমস্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন সেগুলোর একত্রিত করার সিদ্ধান্ত হয়। আমরা খুব দ্রুত সেসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করব। প্রশান্ত কুমার হালদারকে ভারত থেকে ফেরাতে প্রয়োজনে ভারতের পশ্চিমবেঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে কমিটি করে টিম পাঠানো হতে পারে।

তিনি বলেন, কূটনীতিক চ্যানেলসহ অন্যান্য যে সমস্ত চ্যানেল ব্যবহার করে তাকে দ্রুত আনা যায় আমরা সেই চেষ্টা করব। আমরা যতগুলো ইউনিটের কথা বললাম সবার সহযোগিতা ও সমন্বয়ে তাকে দেশে ফেরাতে সফল হবো।

ভারতে পিকে হালদারের সম্পদের খোঁজ করতে দুদক বিএফআইইউকে যে চিঠি দিয়েছে সে বিষয়ে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, আমরা যে মামলা করেছি সেখানে ভারতে পিকে হালদারের অল্প পরিমাণ সম্পদের তথ্য আমাদের কাছে ছিল, বাকি তথ্যগুলো যদি আমরা পাই তার বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়ার ব্যবস্থা নেব। বিএফআইইউ সেই তথ্যগুলো আমাদের সংগ্রহ করে দেবে।

ইন্টারপোলের তৎপরতার বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, ইন্টারপোলকে আমরা চিঠি দিয়েছি। ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের প্রধান শাখা থেকে ভারতীয় ইন্টারপোলের যারা আছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা যেন সেই যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। আর পিকে হালদারের বিষয়ে আমরা যে রেড এলার্ট জারি করেছি সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রথম ইন্টারপোলে চিঠি পাঠায় দুদক। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১০ জানুয়ারি ইন্টারপোল পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল। এরপর গত ১৪ মে পি কে হালদারকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে গ্রেপ্তারের পরদিন ১৫ মে ইন্টারপোলের ঢাকা ডেস্ক থেকে নয়াদিল্লি ডেস্কে আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়।

আলোচিত পি কে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মোট ৪০টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার চার্জশিট ২০২১ সালের নভেম্বরে দাখিল করা হয়। যেখানে ৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে পি কে হালদারসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

মামলার তদন্তকালে এখন পর্যন্ত ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পি কে হালদারের সহযোগী শঙ্খ বেপারী, রাশেদুল হক, অবান্তিকা বড়াল ও নাহিদা রুনাইসহ ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া এক হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ অবরুদ্ধ ও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের মাধ্যমে ৬৪ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই ইস্যুতে ৩৩ ব্যক্তির সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

গত ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। মঙ্গলবার (১৭ মে) তার বিরুদ্ধে আরও ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন কলকাতার একটি আদালত।

হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশত্যাগ করেন পি কে হালদার। একপর্যায়ে নাম পাল্টে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পি কে হালদার নিজেকে শিবশঙ্কর হালদার নামে ভারতে পরিচয় দিতেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতীয় রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান ও আধার কার্ডও সংগ্রহ করেন। তার অন্য সহযোগীরাও ভারতীয় এসব কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করেন।

আরএম/আইএসএইচ

Link copied