চেরাপুঞ্জিতে ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টির পর ডুবেছে সুনামগঞ্জ

Dhaka Post Desk

ঢাকা পোস্ট ডেস্ক

১৭ জুন ২০২২, ১২:৩০ পিএম


চেরাপুঞ্জিতে ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টির পর ডুবেছে সুনামগঞ্জ

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮১১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৭ বছরের মধ্যে এটি একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। পৃথিবীতে যেসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় তার একটি হলো চেরাপুঞ্জি।

এদিকে এ বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যায় ডুবেছে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের একটি অফিস আদেশে, ভারতের মেঘালয়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে এ জেলায় (সুনামগঞ্জ) নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিপ্তর বলছে, তারা যেদিন থেকে এ অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের তথ্য রাখা শুরু করেছে তখন থেকে এ পর্যন্ত জুনে একদিনে ৭৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১০ বার।

১৯৯৫ সালের ১৬ জুন চেরাপুঞ্জিতে একদিনে ১৫৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। তার আগেরদিন হয়েছিল ৯৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি।

এদিকে সুনামগঞ্জে এরইমধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অনেকে ফেসবুকে লিখেছেন। আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধির মোবাইলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কন্ট্রোল রুমের চারটি মোবাইল নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মোবাইল সংযোগ নিয়ে এ বিভ্রান্তির পেছনে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এখন আমার ঘরে হাঁটুর ওপরে পানি

বন্যা পরিস্থিতির বড় রকমের অবনতি হয়েছে সিলেটে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট নগরীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাসাবাড়ির রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।  তাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাকিল মোরশেদ শুক্রবার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই আমার ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কিন্তু এখন আমার ঘরে হাঁটুর ওপরে পানি। এই অবস্থায় বউ-বাচ্চা নিয়ে কার শরণাপন্ন হব?

বন্যার কারণে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আগে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যাওয়ার জন্য এসব এলাকার লাখো মানুষ আকুতি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

সিলেটের জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, লামাকাজী, বিশ্বনাথ এবং ওসমানীনগরসহ সবকটি এলাকায় পানিতে টইটুম্বুর করছে। অনেক জায়গায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।সেইসঙ্গে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, পিয়াইন নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়াতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এনএফ

টাইমলাইন

Link copied