দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে

Shahadat Hosen (Rakib)
শিবচর, মাদারীপুর থেকে

২৫ জুন ২০২২, ০৮:৪৪ এএম


দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে

বাঙালির গর্বের প্রতীক পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আজ শনিবার (২৫ জুন)। সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর দুপুর ১২টায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাংলাবাজার ফেরিঘাটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে জনসভা শুরু হওয়ার সময় নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু ভোর থেকেই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছে সভাস্থলে।

জানা গেছে, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী থেকে বাস ও লঞ্চযোগে জনসভাস্থলে আসছে মানুষ।

বরিশাল থেকে লঞ্চে করে এসেছেন আমিন মিয়া নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। এখানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে আসলাম।

dhakapost

পটুয়াখালী থেকে আসা নুরুল নামের আরেক কর্মী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইতিহাস রচিত হচ্ছে আজ। এখানে ইতিহাসের সাক্ষী হতে এসেছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। সভাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে।

জনসভাস্থলে কয়েকটি অস্থায়ী হাসপাতাল, সাড়ে পাঁচ শতাধিক শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ওয়াচ টাওয়ার থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ব্যানার, পোস্টার আর বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার আর অলিগলি। বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডার, জনসভাস্থলসহ দুই পাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাতে সাজানো হয়েছে।

এ জনসভায় ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করার পরিকল্পনা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

dhakapost

শুক্রবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জনসভাস্থল পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে যে পরিমাণ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখছি তাতে বৃষ্টি না হলে উপস্থিতি ১০ লাখ ছাড়াবে।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এই সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একই সঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করে পদ্মা সেতুর কাঠামো। এরপর একে একে সব ধাপ পেরিয়ে পদ্মার বুকে ৪২টি পিলারের ওপর দৃশ্যমান হয়ে ওঠে স্বপ্নের সেতু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২ থেকে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

এসএইচআর/এসএসএইচ

Link copied