ঢাকায় মোবাইল-ল্যাপটপ চুরি করে কক্সবাজারে পাঠিয়ে দিত চক্রটি

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ এপ্রিল ২০২৩, ০১:১৯ পিএম


রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ও ল্যাপটপ চোর চক্রের সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) কলাবাগান থানা।

গ্রেপ্তাররা হলেন নুর ইসলাম (৩৫) ও আবু বরকত মিশকাত (৩২)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আইফোন, ৩৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ও ৩টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

জানা গেছে, চক্রটি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ব্র্যান্ডের মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি করে তা কুরিয়ারের মাধ্যমে কক্সবাজারে পাঠিয়ে দিত। তবে তারা কেন কুরিয়ারে কক্সবাজারে পাঠাতো তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

dhakapost
গ্রেপ্তার চোর চক্রের সক্রিয় দুই সদস্য

রোববার (২ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ।

মো. শহিদুল্লাহ বলেন, গত ২৭ মার্চ সকালে কলাবাগান থানাধীন ক্রিসেন্ট রোড-২ এর একটি ফ্ল্যাটের ৬ষ্ঠ তলা থেকে চারটি আইফোনসহ নগদ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা চুরি হয়। মোট ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারে কলাবাগান থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে শয়ন নামে এক ব্যক্তি।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের কলাবাগান থানার আভিযানিক একটি দল তদন্ত শুরু করে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান, শনাক্ত করে। কলাবাগান থানা পুলিশ গত ২৯-৩১ পর্যন্ত ঢাকা ও কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডের মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

dhakapost
 জব্দ হওয়া চারটি আইফোন, ৩৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ও ৩টি ল্যাপটপ

তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পরের যোগসাজশে রাজধানী ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে মোবাইল, ল্যাপটপ চুরি করে আসছে। তারা চোরাই মোবাইল ফোনগুলোর আইএমআই নম্বর পরিবর্তন করে এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পৃথকভাবে খুলে স্বল্পমূল্যে অন্যত্র বিক্রি করে। এছাড়া তারা অধিকাংশ সময় কুরিয়ারের মাধ্যমে চোরাই মোবাইল কক্সবাজার পাঠিয়ে দিতো।

রাজধানীতে চোরাই জিনিসপত্র বিক্রির কোনো স্থান রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ডিসি বলেন, রাজধানীতে আমরা এমন কোনো স্থান পাইনি। চোরচক্র রাজধানীর চেয়ে রাজধানীর বাইরে চোরাই জিনিসগুলো পাঠিয়ে দেয়। রাজধানীতে মানুষ সচেতন হওয়ায় চোরাই জিনিসপত্র তেমন কিনে না। তাই চোরচক্রের সদস্যরা রাজধানীর বাইরে পাঠিয়ে দেয়। গ্রামের মানুষ একটি মোবাইল কম দামে কিনে নিতে পারে। তারা সাধারণত খোঁজ নেয় না কোথা থেকে মোবাইলটা এসেছে।

চোরাই মোবাইল বা কোনো জিনিস কেনার আগে যাচাই করে কেনার আহ্বান জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এমএসি/এমএ

Link copied