ইএসপিএন ক্রিকইনফো জুয়ার বিজ্ঞাপন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়া ও বেটিং–সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৬ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি জানান, ইএসপিএন ক্রিকইনফো জুয়ার বিজ্ঞাপন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বলে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ডিজিটাল মিডিয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সেলিব্রেটিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা কোনোভাবেই জুয়া, বেটিং, পর্নোগ্রাফি বা অনৈতিক পণ্য ও সেবার প্রচারে অংশ না নেন এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, স্থানীয় ও আঞ্চলিক সব মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে তাদের ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপে ডিফল্ট অ্যাডসেন্স চালানোর পরিবর্তে কাস্টমাইজড সেটআপে যেতে হবে; যাতে জুয়া, পর্ন, গ্যাম্বলিং বা অনৈতিক গেমিং সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন বা পপ-আপ আসতে না পারে।
একইসঙ্গে মোবাইল অপারেটর, আইএসপি, গুগল অ্যাডসেন্স, মেটা অ্যাডসহ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় ফিল্টারিং ও পপ-আপ ব্লকিং নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন পোর্টাল, টেকনোলোজি সাইট, স্পোর্টস ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে; যা বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২–এর সরাসরি লঙ্ঘন।
সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, প্রচলিত আইন ভঙ্গ করলে জনমতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণকে অবহিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, নৈতিক ও প্রজন্মবান্ধব রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন, এককভাবে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সবচেয়ে বেশি জুয়ার বিজ্ঞাপন দেয় ক্রিকইনফো, যা দেশের আইন লঙ্ঘন করছে। এ পরিস্থিতিতে ওয়েবসাইটটি ব্লক করার বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
তিনি আরও, অনলাইন জুয়া, এর প্রচার-প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদি বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। জুয়ার কালো থাবায় বাংলাদেশের যুবকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছে, পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের সম্পদ। আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বেশ কিছু ক্রিকেট প্লেইং দেশের ক্রিকইনফো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট স্টাডি করে দেখেছি— সেখানে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন শতভাগ অনুপস্থিত।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ) ইতোমধ্যে ক্রিকইনফোকে এ বিষয়ে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের কাছে ডাকযোগে রেজিস্টার্ড চিঠি পাঠানো হবে।
আরএইচটি/জেডএস