‘চড় মারার জেরে’ ২০ কোপে খুন, দুই মেয়েকে নিয়ে স্ত্রীর আহাজারি

রাজধানীর কদমতলী থানার পাটেরবাগ এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. শাহাবুদ্দীন নামে এক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে, হত্যার মূল কারণ বা মোটিভ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী রুবিনা বেগম জানান, তার স্বামী আগে ভাঙ্গারি পণ্যের ব্যবসা করতেন। তবে গত দুই মাস ধরে তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তারা পাটেরবাগ আদর্শ সড়ক এলাকায় বসবাস করতেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট জানিয়ে রুবিনা বেগম অভিযোগ করেন, এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী জাকিরকে চড় মেরেছিলেন শাহাবুদ্দীন। সেই ঘটনার জেরে মাদক ব্যবসায়ী ভদ্র রফিক, জাকির, ল্যাংড়া আবুল, নার্গিস, সুরভী ও বাঘা রাজুসহ একদল সন্ত্রাসী শাহাবুদ্দীনকে ঘেরাও করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
থানাপুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুবিনা বেগম বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এখন পর্যন্ত নার্গিস ও সালটু রফিকসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কান্নারত কণ্ঠে রুবিনা বেগম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা আমার স্বামীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন নেই।
নিহত শাহাবুদ্দীনের স্ত্রী আরও বলেন, কদমতলী এলাকায় আমার স্বামীর নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়ির নিচেই তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করতেন। মিম (১১) ও শারমিন (৯) নামে আমাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সামান্য বিষয় নিয়ে তারা আমার স্বামীকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তা ভাবা যায় না।
একই জিনিস উঠে এসেছে সুরতহাল প্রতিবেদনেও। কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাফর আহমেদ সুরতহাল প্রতিবেদনে শাহাবুদ্দীনের শরীরে অন্তত ২০টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও এসব গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শাহাবুদ্দীনের বড় ভাই মহিউদ্দিন জানান, গতকাল রাতে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ভাইকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক জানান— আমার ভাই আর বেঁচে নেই। আমার ভাইকে তারা অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। তার শরীরের ডান হাতের কনুইয়ের সামনে ও পেছনে, ডান হাতের কব্জি ও হাতের পিঠে, বাম হাতের পাতার সামনে ও পেছনে এবং বাম বুকের নিচে ও ডান বগলের নিচে আঘাত করা হয়েছে। এ ছাড়া, পেটের মাঝামাঝি জায়গায় ধারালো অস্ত্রের এমন গুরুতর আঘাত করা হয়েছে যে তার ভুঁড়ি বেরিয়ে গিয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাফায়েত হোসেন জানান, শাহাবুদ্দীনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে নিহতের স্ত্রী রুবিনা বেগম কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে জাহাঙ্গীর নামে একজনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় এবং শাহাবুদ্দীন তাকে একটি চড় মারেন। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।
মাদক সংক্রান্ত বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার মূল মোটিভের (কারণ) বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গতকাল রাত ১০টার দিকে কদমতলী থানা এলাকার পাটেরবাগ সংলগ্ন রাস্তায় পূর্বশত্রুতার জেরে সিলিন্ডার ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দীনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসএএ/এমজে
