আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকদের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ(সিআইডি)।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ আমদানি ও রপ্তানির ঘোষণায় গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম, পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাধীন পরিচালক তানিম নোমান সাত্তার ও মো. আজহারুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসির হেড অফিস কর্পোরেট শাখা (গুলশান-১) থেকে ছয়টি এলসি বা সেলস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ৫৬টি ইএক্সপি গ্রহণ করেন। এসব ইএক্সপির বিপরীতে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করা হলেও নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও রপ্তানিমূল্য দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়নি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ আমদানির ঘোষণা প্রদান করলেও প্রকৃতপক্ষে ঘোষণাকৃত পণ্যের তুলনায় কম বা ভিন্ন পণ্য আমদানি করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৮১৪ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমান বাজারমূল্যে (প্রতি ডলার আনুমানিক ১২২ টাকা) যার পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৩ টাকা।
অনুসন্ধানকালে আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ লি. এর নিবন্ধিত কার্যালয় ও কারখানার নথিপত্র, আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র, এলসি ডকুমেন্ট, ব্যাংক হিসাব বিবরণীসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করে এই অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সিআইডির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এসএএ/এমজে