বিদেশি ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

নেদারল্যান্ডসের ‘উইথলোকালস’ নামীয় একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) ও হৃদয় হাসান (২১)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হৃদয় হাসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং তৌহিদ ভূঁইয়া তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত আসামি। প্রতারক চক্রটি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক উইথলোকালস প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হুবহু ক্লোন করে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। পরে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে ওই ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক সাধারণ মানুষের কাছে পাঠানো হয়। নিজেদের বিদেশি কোম্পানির কর্মী পরিচয় দিয়ে দ্রুত ও উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, সাধারণ মানুষ প্রলোভনে পড়ে ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন। এভাবে অন্তত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে জানা যায়, এজাহারভুক্ত আসামি হৃদয় হাসান দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
পরে গত ৭ জানুয়ারি সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি দল জামালপুরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে প্রথমে তৌহিদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে চক্রের মূলহোতা হৃদয় হাসানকে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হৃদয় হাসানের কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। এ ছাড়া, তার ব্যবহৃত দুটি বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট অন্য ব্যক্তিদের নামে খোলা হলেও সেগুলোর সঙ্গে তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, হৃদয়ের স্মার্টফোনে থাকা ১৫টি কিউআর কোড ব্যবহার করে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে সে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত। নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করলেও বাস্তবে সে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় জড়িত ছিল।
গ্রেপ্তার উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। বর্তমানে বাইন্যান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, ভুক্তভোগীদের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
এসএএ/এমজে