পদ্মা সেতু ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, পদ্মা সেতু ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সরকারি সফরে খুলনায় যাওয়ার পথে তিনি নিজে পদ্মা সেতুর ডি-টোল সেবা ব্যবহার করেন এবং পদ্মা সেতু ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ট্যাগ রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, মানুষের যাত্রা অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও উন্নত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নগদভিত্তিক টোল আদায়ে গাড়ির গতি কমে যায়, ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ডি-টোল চালুর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে টোল প্রসেসিং সম্ভব হচ্ছে, এতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে এবং সময় সাশ্রয় হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যমুনা সেতু, মেঘনা-গোমতী সেতুসহ দেশের অন্যান্য বড় সেতুতেও ডি-টোল ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের মহাসড়ক ও সেতুগুলোর জন্য একটি একীভূত টোলিং ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এ সময় ডি-টোল সেবা ব্যবহার করেন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আব্দুর রফিক, হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (উপসচিব) ফজলুল জাহিদ পাভেল, হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ সফিউল আযমসহ এটুআই ও আইসিটি ডিভিশনের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এটুআই নির্মিত এই ডি-টোল সিস্টেমের পাইলট কার্যক্রম গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে শুরু হয়। এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি ও প্রাইম ব্যাংক পিএলসি—এই ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ডি-টোল ব্যবহারে নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট বা আলাদা অ্যাপের প্রয়োজন নেই। গ্রাহকের বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে।
এমএসএ
