চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ন্ত্রণ হারানো জাহাজ থামল ক্যাপ্টেনের দক্ষতায়

কর্ণফুলী নদীতে সম্ভাব্য এক ভয়াবহ শিল্প ও নৌ দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে এলপিজিবাহী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌ বিভাগের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, দক্ষতা ও অসীম সাহসিকতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে কর্ণফুলী চ্যানেলের ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে বার্থিংয়ের সময় ১৫৯ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজটিতে হঠাৎ মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ওই সময় জাহাজটিতে ৫১৫ টন প্রোপেন ও ৪ হাজার ৫৭০ টন বিউটেন সমন্বিত এলপিজি গ্যাস বহন করা হচ্ছিল।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির দিকে দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ, জানমালের ব্যাপক ক্ষতি এবং জেটি ও নৌচ্যানেলের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
এমন সংকটময় মুহূর্তে জাহাজে কর্তব্যরত সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে দ্রুত জাহাজের নোঙর ফেলেন এবং টাগবোট ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে জাহাজটির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং দিক পরিবর্তিত হয়ে কাফকো জেটির কাঠামো থেকে আনুমানিক ১ দশমিক ২ মিটার দূরত্বে জাহাজটিকে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিটিএমএসের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ ও দলগত প্রচেষ্টার ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট জাহাজের ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে।
এমআর/এসএম