শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও একটি মোটরসাইকেল।
সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (গতকাল) ভোর পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিএমপির পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চকবাজার থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার করা রিভলভার ও গুলি পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল।
কাইয়ুম বহদ্দারহাটে সংঘটিত আলোচিত আট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং বড় সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী। তার দেওয়া তথ্যে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ মনির নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা পিস্তলটি ডবলমুরিং থানা থেকে লুণ্ঠিত।
পরে মনিরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে তাদের সহযোগী সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, এসব অস্ত্র খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
সিএমপি আরও জানায়, গ্রেপ্তার কাইয়ুমের কাছ থেকে বড় সাজ্জাদ গ্রুপে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা তিনটি অস্ত্রই সাম্প্রতিক সময়ের গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে, যা ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
যেভাবে উত্থান বড় সাজ্জাদের নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর চালিতাতলী এলাকার আবদুল গণি কন্ট্রাক্টরের ছেলে সাজ্জাদ আলী। ১৯৯৯ সালের ২ জুন পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খান খুনের ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে অপরাধজগতে সাজ্জাদের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে ওই মামলা থেকে তিনি খালাস পান।
২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীসহ আটজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে, যা ‘এইট মার্ডার’ নামে পরিচিত। ২০০০ সালের ১ অক্টোবর একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে জামিনে বেরিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান সাজ্জাদ।
পুলিশের তথ্যমতে, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ২৫ জন সক্রিয় সন্ত্রাসী রয়েছে। বর্তমানে কারাগারে থাকা ছোট সাজ্জাদ এই বাহিনীর মূল নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ১৫ মামলার আসামি রায়হান এর হাল ধরেন। এই দলে মো. খোরশেদ, মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে ইমন, মোহাম্মদ ওরফে ভাতিজা মোহাম্মদসহ আরও অনেকে সক্রিয় আছেন, যারা অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। বড় সাজ্জাদ বিদেশ থেকে মুঠোফোনে তাদের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য সিআইপি মুজিবুর রহমানের বাড়িতে একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনায় বড় সাজ্জাদের হাত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরএমএন/বিআরইউ