চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে লড়বেন ১১১ প্রার্থী, আজ প্রতীক বরাদ্দ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে চট্টগ্রামে ১২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এখন চূড়ান্তভাবে ১১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন। আজ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মোট ১২ জন প্রার্থী চট্টগ্রামের তিন রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরীর কার্যালয়ে গিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে চট্টগ্রামে ১২ প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির দ্বৈত প্রার্থীর মধ্যে গোলাম আকবর খোন্দকার তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় চট্টগ্রামে জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৬টি আসনের মধ্যে ৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালি আসনে এবং চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে জোটের শরিক দলের প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর মুফতি মোহাম্মদ ইমরান ইসলামাবাদী বলেন, জোট আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তারপরও ভোটের মাঠে আমরা জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। আমরা ইসলামপন্থি দল। আমরা একসঙ্গে জোটের প্রার্থীর জন্য কাজ করব। ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখ এই আসনসহ ১০ দলীয় জোট বিজয় লাভ করবে।
চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচএম আশরাফ বিন ইয়াকুব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম–৮ বোয়ালখালী–চান্দগাঁও আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালি আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দীন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মোহাম্মদ লোকমান, চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান এবং চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি–এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুহাম্মদ মুসা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম–১, চট্টগ্রাম–৩, চট্টগ্রাম–৪, চট্টগ্রাম–১০, চট্টগ্রাম–১৪ ও চট্টগ্রাম–১৫ আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
নগরীর তিনটি সংসদীয় আসন এবং নগরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটিসহ মোট ৫টি আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলার ১০ আসনের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনের রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।
চট্টগ্রামের-১৬ আসনে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে নানা ত্রুটির কারণে রিটার্নিং অফিসারগণ ৪২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বাছাইকালে রিটার্নিং অফিসার ১০১ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেন। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। এর মধ্যে ২০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পান দুজন। গতকাল ১২ প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় চট্টগ্রামে ১৬ আসনে এখন বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১১১ জন।
আরএমএন/এমএন