৯৯৯-এ পাকিস্তানি নাগরিকের ফোন, পারিবারিক বিপর্যয়ে আত্মহত্যার হুমকি

চলন্ত গাড়ি থেকে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ ফোন। ওপাশে কান্নায় ভেঙে পড়া এক পাকিস্তানি নাগরিকের কণ্ঠে আত্মহত্যার হুমকি। তার আকুতি, দাম্পত্য কলহ আর স্ত্রীর মানসিক চাপে তিনি চরম সংকটে রয়েছেন, তাই এখনই জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিতে চান। তবে ৯৯৯-এর তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও পুলিশের তড়িৎ হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছেন ওই ব্যক্তি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ৯৯৯ ও তুরাগ থানা-পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) ৯৯৯–এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উত্তরা থেকে একজন ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিক। পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। চার বছর আগে এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। কলারের অভিযোগ, তিনি প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা বেতন পান এবং বেতনের সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এর পরও নানা ছুতোয় তার স্ত্রী আরও টাকা দাবি করেন এবং অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগে তাকে ব্ল্যাকমেইলিং করে যাচ্ছেন।
৯৯৯ কর্তৃপক্ষ জানায়, কথা বলার একপর্যায়ে কলার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, গাড়ি চালানো অবস্থায় তিনি ফোন করেছেন এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এ সময় ৯৯৯ থেকে কলারকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয় এবং তাকে গাড়ি থামানোর অনুরোধ জানিয়ে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। কলারের বাসার ঠিকানা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে তার কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।
৯৯৯-এ এই জরুরি কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সঙ্গে তদারক ও সমন্বয় করেন ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন।
খবর পেয়ে তুরাগ থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত ওই কলারের বাসায় যায়। খবর পেয়ে সেখানে কলারের সহকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবের পাশাপাশি তার শাশুড়িও উপস্থিত হন। এ সময় কলারের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিয়মিত গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। পরে সবার উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝির মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ওই সময় স্বামী বা স্ত্রী–কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। পরবর্তীকালে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে তাদের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
এমএসি/বিআরইউ