বাংলাদেশের লায়ন্সের কার্যক্রম বিশ্বমানের, আরও সহযোগিতা বাড়বে

বাংলাদেশে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের সেবামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সুসংগঠিত বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মনোজ শাহ। তিনি বলেন, এখানকার লায়ন্স সদস্যদের নিষ্ঠা, নেতৃত্ব ও মানবিক চেতনা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতা ও সমর্থন আরও জোরদার করা হবে।
চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থানকালে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. মনোজ শাহ।
লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বাংলাদেশের আমন্ত্রণে গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে তিনি ঢাকায় আসেন। সফর শেষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সফরে তার সহধর্মিণী জাইনা শাহও সঙ্গে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মনোজ শাহ বলেন, গত দুই দিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন স্থায়ী ও চলমান সেবামূলক প্রকল্প পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশের লায়ন্স সদস্যরা সমাজের গরিব, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের সেবায় যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়।
তিনি শিশু ক্যান্সার প্রতিরোধে লায়ন্সের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে বলেন, এই প্রকল্পটি সরাসরি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। একইসঙ্গে সারা দেশে লায়ন্স ক্লাবগুলোর মাধ্যমে নিরন্ন মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
ড. মনোজ শাহ আরও বলেন, বাংলাদেশ সফরকালে আমার দেখা অন্যতম সেরা ও বৃহৎ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা পাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও উল্লেখযোগ্য।
তিনি জানান, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবসেবামূলক সংগঠন। চলতি বছর বিশ্বজুড়ে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সারাবিশ্বে মোট ১৬০টি মানবসেবামূলক প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর নাজমুল হক বলেন, ড. মনোজ শাহের এই সফর বাংলাদেশের লায়ন্স আন্দোলনের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লায়ন্স কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান ও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের অধীনে ৩০০টিরও বেশি সেবামূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বাংলাদেশের কাউন্সিল চেয়ারপারসন মো. আশরাফ হোসেন খান হীরা বলেন, এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সফরের ফলে বাংলাদেশের লায়ন্স কার্যক্রম নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা পাবে। ভবিষ্যতে মানবসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টিআই/এসএসএইচ