চোরাই মোবাইলের আইএমইআই বদলে দিচ্ছে অপরাধীরা, একাধিক চক্রের সন্ধান

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর পরিবর্তন করে সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা নজরে আসছে, যা আমাদের সন্দেহের কারণ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি দোকান থেকে মো. আসাদুজ্জামান (৩৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গুলিস্তান পাতাল মার্কেটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে দোকান থেকে আইএমইআই কেটে ফেলা পাঁচটি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য জমা রাখা আরও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ডিসি নাসের রিকাবদার জানান, অভিযানে এমন দুটি সফটওয়্যারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে ডাটা কেবলের সাহায্যে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইএমইআই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি ওই দোকানের একজন কর্মচারী এবং দোকানে বসেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই অবৈধ কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আরও অন্তত ৮ থেকে ১০টি দোকানের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। দোকানগুলো বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান সম্ভব না হলেও শিগগিরই ব্যাপক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গুলিস্তানকেন্দ্রিক চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি নাসের বলেন, গত এক মাসে এএসপি মাহমুদের নেতৃত্বে একাধিক অভিযানে ফুটপাত থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। সেগুলো পরীক্ষা করে আইএমইআই সংক্রান্ত অসংগতি পাওয়া যায়, যা থেকে এই চক্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করা হলে প্রকৃত মালিক আর সেই ফোন শনাক্ত করতে পারেন না। এতে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে এসব মোবাইল বিক্রি ও ব্যবহার করতে পারে।
এমএসি/জেডএস