ভৈরবে ট্রেন লাইনচ্যুত: ঢাকা থেকে ছাড়তে দেরি, থাকছে টিকিট ফেরতের সুযোগ

চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল–২’ (ডাউন) ট্রেনের একটি বগি ভৈরব বাজার জংশন এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটের একাধিক ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। এসব ট্রেন ঠিক কখন ছাড়বে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
ট্রেন ছাড়তে অতিরিক্ত বিলম্ব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ট্রেনের যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীরা চাইলে টিকিট বাতিল (ক্যান্সেল) করে অনলাইন চার্জ বাদে বাকি টাকা ফেরত নিতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্টেশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিলেট ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে না পারায় সেগুলো পুনরায় ছেড়ে যেতে পারছে না। ট্রেনগুলো কখন ঢাকায় পৌঁছাবে কিংবা কখন ছাড়বে— সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের শিডিউল বোর্ডে দেখা গেছে, চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২), সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩) এবং নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) ট্রেনগুলো দুপুরের দিকে ছাড়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায়নি। এসব ট্রেনের শিডিউলের পাশে ‘বিলম্ব হবে’ লেখা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ভৈরব বাজার জংশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল–২’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি ২৬ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
ঘটনার পর প্রায় আট ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, বেলা ১১টার দিকে ওই রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভৈরব বাজার জংশনের কেবিন স্টেশন মাস্টার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা মেইল–২ ট্রেনটিকে সামনে এগোনোর অনুমতি দেন। লোকোমাস্টার ট্রেনটি নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরই একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ওই স্টেশনের আপ ও ডাউন— উভয় লাইনই বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৩টার পর থেকে ঢাকা–সিলেট–চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
এমএইচএন/