সৌদিতে বাড়ি ভাড়া না করায় অনেকের হজে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা

নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়ার কাজ এখনো বড় অংশই বাকি। হজ এজেন্সিগুলোর এমন গাফিলতিতে শেষ পর্যন্ত হজযাত্রীদের হজে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে মক্কা ও মদিনায় শতভাগ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য লিড এজেন্সিগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এই নির্দেশনা দিয়ে ৩০টি লিড এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী হজ এজেন্সির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যাবেন।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে কঠোর বার্তা দিলেও নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মের গত ২৬ জানুয়ারির রিপোর্ট অনুযায়ী অগ্রগতির চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কায় মাত্র ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মদিনায় ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। ৩০টি লিড এজেন্সির মধ্যে মক্কায় মাত্র একটি এবং মদিনায় মাত্র একটি এজেন্সি শতভাগ বাড়ি ভাড়া করতে পেরেছে। একটি এজেন্সি এখনো কাজ শুরুই করেনি, বাকিরা আংশিক কাজ শেষ করেছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারির মধ্যে বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কোনো সমন্বয়কারী এজেন্সি যদি লিড এজেন্সিকে সহযোগিতা না করে, তবে তা ২৭ জানুয়ারির মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
নিবন্ধিত হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া না করায় ‘কালকিনী হজ ট্রাভেলস’ (লাইসেন্স নং-১৫১৫) এর কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে মন্ত্রণালয়। এই এজেন্সির অধীনে ৩৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধিত থাকলেও বাড়ি ভাড়ার কোনো অগ্রগতি হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি এজেন্সির স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, হজযাত্রীরা টাকা না দেওয়ায় বাড়ি ভাড়া করা সম্ভব নয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতে, এই বক্তব্য এবং হজযাত্রীদের প্রেরণে উদাসীনতা ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১’ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। এই নেতিবাচক জবাবের কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ২৮ জানুয়ারির মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসএইচআর/বিআরইউ