প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ২১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ঘুষ-দুর্নীতি

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটার দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ২১ কোটি টাকার এই কেনাকাটায় অনিয়মের খবর পেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই কেনাকাটায় প্রথমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদানের সুপারিশ (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কৃত্রিম ঘাটতি দেখিয়ে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ক্ষুদ্র খামারি ও দরিদ্র কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ওষুধাঘারের মাধ্যমে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এ বছর প্রায় ২১ কোটি টাকার কেনাকাটার জন্য মোট ৩১টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কারণ ছাড়াই মিথ্যা তথ্য দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হয়। এই কাজে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা ঘুষের লেনদেন হয়েছে বলে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে।
দুদক জানায়, টেন্ডার সংক্রান্ত সংগৃহীত নথিপত্র বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রচলিত বিধি-বিধান মেনে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের বাইরে গিয়ে কোনো উদ্দেশ্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে পরিষ্কার করা হবে।
আরএম/বিআরইউ