আগের ফল ঝুলিয়ে রেখে আবারও পরীক্ষা নিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা

চট্টগ্রাম ওয়াসায় সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর ২১ পদে নিয়োগের জন্য আগামীকাল (শনিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে লিখিত পরীক্ষা। ২০২৩ সালের ১২ মে একই পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই পরীক্ষার ফলাফল যথারীতি প্রকাশ করার পর একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষার দিনক্ষণও ঠিক করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু সেই মৌখিক পরীক্ষা আর আলোর মুখ দেখেনি।
সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার কয়েকজন কাছের কর্মকর্তার পছন্দের প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা ঝুলে আছে দুই বছর ধরে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরীক্ষার্থী বলেন, চুয়েটে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম ও দুনীতির সুযোগ নেই। কিন্তু ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি আজ পর্যন্ত। চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনাও সেই একই পথে হাঁটলো। এতে আমরা যারা উত্তীর্ণ হয়েছিলাম তাদের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেও বিশাল অংকের টাকা তছরুপ হচ্ছে।
এবারের নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয় গত ১০ ডিসেম্বর। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েটে) অনুষ্ঠেয় এই পরীক্ষার জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় নিয়ম মাফিক ৬৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পরের ধাপে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীদের নিয়োগ নিশ্চিত করলে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেতো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ( অতিরিক্ত দায়িত্ব ) মনোয়ারা বেগম জানান, আগে কিছু নিয়ম-কানুনের ব্যত্যয় ছিল। আমরা সেগুলো শুধরে নতুনভাবে পরীক্ষা নিচ্ছি।
আগের নেওয়া পরীক্ষা থেকে নিয়োগ নিশ্চিত না করায় রাষ্ট্রের ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা গচ্চা যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা গেলেও নিয়ম-কানুন নিশ্চিত করে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি এডভোকেট মোকাররম হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগের উত্তীর্ণদের ঝুলিয়ে রেখে নতুন করে পরীক্ষার আয়োজন এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা খরচ করা আইনের ব্যত্যয় ও মানবাধিকার লংঘন।
আরএমএন/এনএফ