রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ক্ষতিপূরণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জাতিসংঘে গৃহীত

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের দীর্ঘ ২৭ বছরের ‘আপত্তি’ অবশেষে অপসারিত হলো। এর ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি বা তাদের পরিবার এখন থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দাবি করতে পারবেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে দেওয়া এই আপত্তি (রিজার্ভেশন) প্রত্যাহারের ঘোষণা জাতিসংঘ গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে ‘নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশন’ (সিএটি)-এর ১৪ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ডিক্লেয়ারেশন প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।
১৯৮৪ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এই কনভেনশনটি বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্র অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এতে যোগ দিলেও ১৪ (১) অনুচ্ছেদে আপত্তি জানিয়ে রেখেছিল। এই অনুচ্ছেদটি মূলত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে। বাংলাদেশের পাশাপাশি বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র– এই পাঁচটি দেশ এই অনুচ্ছেদে আপত্তি দিয়েছিল।
দীর্ঘদিন এই আপত্তি বহাল থাকায় বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিরা আইনিভাবে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন এই বাধা দূর হওয়ায়– নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন; ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন; মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা গত দুই দশক ধরে এই আপত্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএসআই/বিআরইউ