পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিকল্পনা ঘোষণার দাবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীকে ঘিরে আর কোনো অস্পষ্টতা না রেখে লিখিত, প্রকাশ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা অবিলম্বে ঘোষণা করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং চাক।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের অন্য পাঁচটি দাবি হলো— ভূমি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে দ্বিমুখী অবস্থান পরিহার করে স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে; রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে লোকদেখানো বক্তব্য না দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকে কেন্দ্র করে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে; নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রতিশ্রুতির ফুটনোট নয়, বরং জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিতে হবে; পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত শান্তিচুক্তি বাতিলের বিষয়ে পরিষ্কার, লিখিত ও জনসম্মুখে রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সব বিচ্ছিন্নতাবাদী ও অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠনের বিরুদ্ধে আপসহীন ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে থোয়াইচিং মং চাক বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো আজও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, রাজনৈতিক উপেক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার বোঝা বহন করছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিচারিতা, দায়িত্বহীনতা ও পরিকল্পনাহীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এলেই জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বুলি আউড়ে যায়। অথচ বাস্তবতা হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রসঙ্গ এলেই তারা নীরব থাকে, অস্পষ্ট বক্তব্য দেয় অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভূমি অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো দলই স্পষ্ট, সময় নির্ধারিত ও জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতা কাকতালীয় নয়, এটি রাজনৈতিক অবহেলার ফল। পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষানিরীক্ষার মাঠ নয়, কোনো সুবিধাবাদী রাজনীতির ব্যাকইয়ার্ড নয় এবং কোনো গোষ্ঠীগত স্বার্থরক্ষার অঞ্চলও নয়। এই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো ভিক্ষুক নয়, তারা রাষ্ট্রের সমান নাগরিক, পূর্ণ অধিকার তাদের প্রাপ্য।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আর প্রতারণার রাজনীতি মেনে নেবে না। প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোর অধিকার প্রশ্নে যারা নীরব থাকবে, তাদের নীরবতাকে জনগণ রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করবে। এই অঞ্চলের জনগণকে উপেক্ষা করে কেউ আর জাতীয় রাজনীতির বৈধতা দাবি করতে পারবে না। এটি কোনো অনুরোধ নয়, এটি একটি রাজনৈতিক দাবি। এটি কোনো সৌজন্য আহ্বান নয়, এটি জবাবদিহির ডাক। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান না নিলে সেই রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বহন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা, সংগঠক মো. শাকিল মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিন হাসান সৌরভ ও আই এইচ রাফি।
এমএইচএন/এমএন