চার দফা দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) জেটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা বা দেওয়াসহ চার দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমম্বয়ক ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া যাবে না, সরকারকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। বিগত আন্দোলনে যেসকল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতিসহ নানাবিধ শাস্তিমূলকব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা বাতিল করে প্রত্যেক কর্মচারীকে স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল করতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
এসময় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক, হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ হারুন, চট্টগ্রাম বন্দর ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আবুল কাশেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহেদ হোসেন, ইমাম হোসেন খোকন, শরীফ হোসেন ভুট্টো উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা পাঁচদিন কর্মবিরতি পালন করে শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর জেরে আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জনকে পানগাঁওসহ বিভিন্ন বন্দরে বদলি করা হয়। লাগাতার আন্দোলনের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের অফারেশনাল কাজ বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দরের অচলাবস্থার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন নৌ-উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। ওইদিন শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এরপর দুদিন কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করে শ্রমিক নেতারা।
আন্দোলন দুদিনের জন্য স্থগিত ঘোষণার পরপরই প্রশাসনিকভাবে কঠোর অবস্থান নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের কারণে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রেক্ষাপটে ১৫ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
আরএমএন/এমএসএ