মোহাম্মদপুরে দিনে-দুপুরে তরুণকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুমার নামাজ পড়ে ফেরার পথে দ্বীন ইসলাম (১৭) নামের এক তরুণকে ‘সামুরাই’ দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– মামলার প্রধান আসামি মো. আলিফ মৃধা (১৯) ও ২ নম্বর আসামি মো. মিরাজ (১৮)।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র্যাব-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী দ্বীন ইসলাম ও তার বন্ধু শান্ত বায়তুন নূর জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পথে আসামি আলিফ ও মিরাজসহ আরও কয়েকজন এক অজ্ঞাতনামা কিশোরকে সামুরাই নিয়ে তাড়া করছিলেন। ওই সময় দ্বীন ইসলামের সঙ্গে আলিফের ধাক্কা লাগে।
এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে দ্বীন ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করেন।
র্যাব জানায়, ১ নম্বর আসামি আলিফ হত্যার উদ্দেশ্যে দ্বীন ইসলামের ঘাড়ের নিচে কোপ দেন। ২ নম্বর আসামি মিরাজ পিঠের মাঝ বরাবর আঘাত করেন, যাতে দ্বীন ইসলামের মেরুদণ্ডের হাড় দৃশ্যমান হয়ে যায়। এ ছাড়া মোহন ও আজগর নামের অন্য দুই আসামি দ্বীন ইসলামের পিঠের বাম পাশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। কিশোরটি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে লাথি-ঘুষি মেরে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
র্যাব-২-এর কর্মকর্তা মো. সামসুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। আজ শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে আলিফ ও মিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এসএএ/বিআরইউ