ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, সর্বোচ্চ আসনে জোটের প্রার্থীদের জয়ের আশা ১১ দলের

বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। জোটের পক্ষ থেকে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিপুল ভোটে সর্বোচ্চসংখ্যক আসনে তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘দেশবাসী স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব। এজন্য আমরা নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ‘আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেও লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই কোথাও কোথাও গণনা শুরু হয়েছে।’
তিনি অতীতের নির্বাচনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল– বিচার, সংস্কার এবং আজকের এই নির্বাচন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শহর থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষ এই নির্বাচনে গভীর আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ট্রলারে, বাসে ও লঞ্চে করে মানুষ বাড়ি ফিরেছেন ভোট দিতে। জুবায়ের বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই আমরা মানুষের দীর্ঘ সারি দেখেছি। এটি একটি অনন্য সাধারণ নির্বাচন হয়েছে, যেখানে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’
সামগ্রিকভাবে ভোট সুষ্ঠু হলেও কিছু আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮ ও পটুয়াখালী-১ নম্বর আসনসহ আরও কিছু কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও ভোটারদের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
ফলাফল পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। তিনটি ব্যালট (জাতীয় সংসদ, গণভোট ও পোস্টাল) একসঙ্গে গণনা হওয়ায় ফলাফল পূর্ণাঙ্গভাবে পেতে কাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, আপনারা বারবার বলছেন যে এবারের নির্বাচনটা খুব সুষ্ঠু হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত হলে ফলাফল মেনে নেবেন কিনা? জানতে চাইলে জুবায়ের বলেন, জনগণ অংশগ্রহণ করেছেন যাদের দায়িত্ব ছিল তারা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। অনিয়ম কি কি হয়েছে সেটাও আমরা বলেছি। আমাদের এজেন্টদের উপর বিভিন্ন পর্যায়ের উপর যা আছে আমরা যতটুটুকু জেনেছি এর ভিত্তিতে আমরা বলেছি। আমরা আরো পর্যবেক্ষণ করছি কি হয়।
কিন্তু আমরা মনে করি যে ওভারঅল অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিশেষ করে বিগত তিনটি নির্বাচনে আমাদেরকে যে হতাশ করেছিল এই নির্বাচন জাতিকে আশান্বিত করেছে যেন একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া যায়। আমরা এখন নির্বাচনের গণনাসহ এগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আশা করবো যে সবদিক থেকে দায়িত্বশীল যারা আছেন যাদের উপর দায়িত্ব আছে তারা সুষ্ঠু সুন্দর দায়িত্ব পালন করবেন। কোন ধরনের কোন অনিয়ম হবে না। কোনো ধরনের কোনো বিচ্যুতি ঘটবে না। এই সব মিলেই যে ফলাফল আসবে আমরা তখন আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মন্তব্য আমরা করবো।
ফল ঘোষণায় ইঞ্জিনিয়ারিং এর আশঙ্কা করছেন কিনা? জানতে চাইলে জুবায়ের বলেন, নির্বাচনের তিনটা পর্যায়ে থাকে। ভোট প্রদানের আগ পর্যন্ত একটা পর্যায় থাকে সেটা শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হচ্ছে ভোট প্রদান। সেটা শেষ হয়েছে। এখন ভোট গণনা এবং রেজাল্ট দেওয়া।
আমরা আশা করবো, এই জাতির প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হোক। জনগণ তাদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব বেছে নিক। সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে সুন্দর এবং সুষ্ঠভাবে। তখনই আমরা আমাদের চূড়ান্ত মন্তব্য পেশ করবো। কিন্তু আমরা মনে করি ওভারঅল এই নির্বাচনটা সুন্দর হয়েছে। শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ওভারঅল এই জাতির জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে এবং আস্থা নিয়ে নির্বাচনে গেছে। ভোট দিয়েছে।
এবারের নির্বাচনটা আসলে কতটুকু অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলে করেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা আমরা জুলাইয়ের পক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে আমরা সবাই অংশগ্রহণ করেছি। ৫১ টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক দল, সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণ। সুতরাং দেশবাসীর রাজনৈতিক দলের স্টেকহোল্ডার যারা ছিলেন সবার অংশগ্রহণের একটি নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর নির্বাচন। গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আমরা বলতে পারি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, আমরা সকাল থেকেই দেখলাম সেটা হচ্ছে যে আমরা সকাল থেকেই আমাদের আসনগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণ কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। এটি একটা খুবই আশাবাঞ্জক ব্যাপার। গত ১৭ বছর আমাদের মতো তরুণরা, যারা আসলে নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া থেকে যাদের দূরে রাখা হয়েছিল, তারা কিন্তু প্রথমবারের মতো খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন। এটি একটা ব্যাপার এবং নির্বাচন যে আসলে শুধু হানাহানি, হামলা মামলা এবং এই ভয়ভীতির সংস্কৃতি না এবং এটি কিন্তু এই নির্বাচনটা একটা বড় উদাহরণ যে বাংলাদেশে এরকম একটি রক্তপাতহীন নির্বাচন হওয়া সম্ভব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি সত্যিকারের জাস্টিস হচ্ছে এটি যে বাংলাদেশে ১৭ বছর পর যে নির্বাচন সেই নির্বাচনে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল এবং যারা আসলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন নির্বাচনকালীন তারা কিন্তু একটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে এবং আমি আমার জায়গা থেকে এবং এনসিপির পক্ষ থেকে এনসিপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আসলে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টি(এলডিপি) ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন, এবি পার্টির আব্দুল হাফিজ খসরুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেইউ/এসআর