নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন প্রতিযোগীতামূলক ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। তবে ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা আশাব্যঞ্জক নয় বলে হতাশা ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মূল্যায়ন নিয়ে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবস।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। নির্বাচন প্রতিযোগীতামূলক হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল; যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা, যাইহোক না কেন, প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
ইইউর পর্যবেক্ষক প্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে ইভার্স ইজাবস বলেন, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা যেমন ছিল নগণ্য, তেমনি ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যাও মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট ২০০ জন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে, এর মধ্যে ৯০ জন সংক্ষিপ্তকালীন পর্যবেক্ষক। এটাই ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
এনআই/এমএন