তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমান, হচ্ছেন আরও দুই টেকনোক্র্যাট

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন ৪৯ জন পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নাম। তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন আমিনুর রশীদও। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন আমিনুল হক (টেকনোক্রেট)।
খলিলুর রহমান
খলিলুর রহমান একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও উচ্চশিক্ষিত আমলা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
১৯৭৯ সালে প্রথম বিসিএসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে পরবর্তী ২৫ বছর জাতিসংঘ সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে (জেনিভা ও নিউ ইয়র্ক) দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া তিনি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তখন থেকেই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপদেষ্টার পদমর্যাদায় কাজ করে আসছেন।
ধারণা করা হচ্ছে অভিজ্ঞ এই কূটনীতিককে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
আমিনুর রশীদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে এই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
আমিনুর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ থেকে পরাজিত হন।
আমিনুল হক
ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচন করেছিলেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী কর্নেল (অব) আব্দুল বাতেনের কাছে হারেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক। রাজধানীর পল্লবী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আমিনুল হক শিক্ষাগত যোগ্যতায় একজন বিএসএস ডিগ্রিধারী এবং পেশায় ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী বিলকিছ আরা নিপা-ও ব্যবসায়িক পেশায় নিয়োজিত। আমিনুল হক বিএনপির একজন সক্রিয় নেতা হলেও এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, যা থেকে বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া তার নামে নগদ অর্থ, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও মোটরযানসহ উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পদ এবং অকৃষি জমি ও অ্যাপার্টমেন্টের মতো স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটা কী
সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হন। তবে বাংলাদেশের সংবিধানে একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে যাতে দেশ পরিচালনার জন্য দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে লাগানো যায়।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারেন যারা সংসদ সদস্য নন। তবে এর একটি নির্দিষ্ট সীমা বা কোটা রয়েছে।
মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ (বা ১/১০ অংশ) টেকনোক্র্যাট হতে পারেন। বাকি ৯০ শতাংশ (বা ৯/১০ অংশ) অবশ্যই নির্বাচিত সংসদ সদস্য হতে হবে। যিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হবেন, তাকে অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ তার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।
সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত তাকে পূরণ করতে হবে (যেমন: ঋণখেলাপি না হওয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব না থাকা ইত্যাদি)।
এমএআর