‘নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ইসি তদন্ত করেনি’

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অযোগ্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা তদন্ত করেনি বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, কমিশন অভিযোগ খতিয়ে না দেখে গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করে নিজেদের দায় সেরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের ফল ও প্রার্থীদের হলফনামার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। তারা তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে। গেজেট প্রকাশ করে তারা হাত মুছে নিয়েছে; তাদের যেন আর কিছু করার নেই।
সুজন সম্পাদক আরও বলেন, ‘যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য, তারা যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে নির্বাচনী ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায়। তখন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যখন এ রকম প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে। আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে তারা। এই নির্বাচনেও এই প্রশ্নগুলো উঠেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জনই ঋণগ্রহীতা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৫০ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। বিজয়ী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
নির্বাচনের আগে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তারা আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ করে গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এমনকি নির্বাচনের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে কি না, সেটি প্রত্যয়ন (সার্টিফাই) করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেনি।
আরপিওর (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) ৯১ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ উঠলে গেজেট প্রকাশের পরেও তা তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। তারা চাইলে এমনকি নির্বাচনও বাতিল করতে পারে।
ওএফএ/বিআরইউ