‘১৭ বছরেও ক্ষত শুকায়নি, মৃত্যুর আগে শুধু বিচারটা দেখে যেতে চাই’

‘১৭ বছর হয়ে গেল, কিন্তু আজও আমাদের ক্ষত শুকায়নি। তবু মৃত্যুর আগে শুধু বিচারটা দেখে যেতে চাই।’ এভাবেই জমানো কথাগুলো বলেছেন পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ মেজর আসাদের বোন হোসনেয়ারা পারভীন।
প্রতিবছরের মতো এবারও ছোট ভাইয়ের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে ছুটে আসেন তিনি। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালেই এখানে এসে হাজির হন এই শহীদ সেনা কর্মকর্তার বোন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে হোসনেয়ারা বলেন, শহীদ মেজর আসাদ আমার ছোট ভাই। প্রতিবছর এখানে আসি। বারবার ছুটে আসতে ইচ্ছা করে। কারণ এই জায়গায় আসার অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো যাবে না। জানি না আর কতদিন আসতে পারবো। আল্লাহ যতদিন হায়াত রেখেছেন, ততদিন আসার চেষ্টা করব।
বিচার নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছরে অনেক আশা ছিল। কিন্তু পূরণ হয়নি। এখন নতুন সরকার এসেছে। তাদের কাছে আমাদের আবেদন যে, দেশের স্বার্থে একটি সুষ্ঠু বিচার হোক। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিজেদের সন্তান রেখে গেছেন। অন্তত সেই সন্তানরা যেন বলতে পারে, তাদের বাবার মৃত্যুর সঠিক বিচার হয়েছে।
মেজর আসাদের বোন বলেন, গেল ১৭ বছরে এই কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে আমরা পাইনি। তাদের প্রতিনিধি এসেছেন। কিন্তু এবার রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী দুজনকেই পেয়েছি। তাদের দেখে আমাদের মনের আশা আরও বেড়ে গেছে। এজন্য তাদের কাছে একটা সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা রইল আমাদের।
আক্ষেপের বিষয়ে হোসনেয়ারা বলেন, আমরা যা হারিয়েছি, তার ক্ষত কেউ পূরণ করতে পারবে না। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি। আমরা যতই আইন-আদালত বলি, আল্লাহ যদি সঠিক বিচার না দেন; তাহলে বিচারটা পাবো না। আমাদের একটাই আক্ষেপ। সেটা হলো দেশের স্বার্থে সুষ্ঠু বিচার। কারণ ৫৭ জন কর্মকর্তা গড়তে আরও কত বছর লাগবে বা আদৌ পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। শুধুমাত্র বিচার হলেই আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা শান্তি পাবো। অর্থাৎ মৃত্যুর আগে তাদের হত্যার বিচারটা যেন দেখে যেতে পারি, এটাই প্রত্যাশা। আর কিছু চাওয়ার নেই আমাদের।
শুধু হোসনেয়ারাই নন, অন্যান্য শহীদ পরিবারেরও একই চাওয়া। তারা একটি সুষ্ঠু বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। এমনকি সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচারে নতুন আশা দেখছেন আশরাফুল আলম হান্নান।
এমআরআর/জেডএস