পোশাক বদল করে পুলিশকে জনবান্ধব করা সম্ভব হয়নি

পোশাক বদল করে পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে যুব বাঙালি। অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি মনে করছে, এখন প্রয়োজন ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন পরিবর্তন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুব বাঙালি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঔপনিবেশিক আইনে পরিচালিত পুলিশের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এসব কথা বলা হয়। একইসঙ্গে ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন পরিবর্তনে দেশের শ্রম-কর্ম-পেশার জনগণের প্রতিনিধি নিয়ে কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২৪ এর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার; অথচ তারা পুলিশের আইন পরিবর্তন না করে পোশাকে বদল করে গেছে। এতে পুলিশ পুনরায় ফ্যাসিবাদী রূপে ফিরে যাচ্ছে। শুধু পোশাক আর লোগো বদল করে পুলিশ বাহিনীকে নির্যাতন ও নিপীড়নের বৈশিষ্ট্য থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়, যা গত ৫৫ বছরে বার বার প্রমাণিত হয়েছে।
পুলিশকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করে যুব বাঙালি। সংগঠনটি দপ্তর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম হৃদয় পাঠানো বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৮৬১ সালের ব্রিটিশ আমলের নিবর্তনমূলক বিদ্যমান পুলিশ আইন বহাল রেখে পুলিশ প্রশাসনকে পরিচালনা করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সব সরকারই বহাল রেখেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে বহুবার পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু আইনগত পরিবর্তন না হওয়ায় সাবেক পুলিশ প্রধানরাও নানাভাবে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটিশ-পাকিস্তানী পরাধীন আমলের শোষণমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশ উপযোগী আইন-কানুন ও বিধিবিধান গড়ে তোলা ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় মনে করে সংগঠনটি।
এএইচআর/এসএম