গ্রেপ্তার এড়াতে বাসায় সিসি ক্যামেরা, তবুও রক্ষা হয়নি সাইফুলের

গ্রেপ্তার এড়াতে বাসা ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। সিআইডির কৌশলী অভিযানে গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আসামি সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে বাসা ও আশপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। তবে সিআইডির নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতা ও কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে তাকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন সাতপাখি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি-এর ঢাকা মেট্রো-উত্তর ইউনিটের একটি অভিযানিক দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলার অধিকতর তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পশ্চিম বিঘা গ্রামে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাল নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রস্তুত মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখিয়ে ১০ লাখ টাকায় একটি পুরোনো গাড়ি বিক্রি করে প্রতারক চক্রটি। এর মধ্যে আড়াই লাখ টাকা নগদ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে লেনদেন হয়। পরে অনলাইনে যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা অন্যের নামে হস্তান্তরের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় পেনাল কোডের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি বিভিন্ন রেন্ট-এ-কার মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে জাল মালিকানা চুক্তিনামা তৈরি করে বিক্রি করত এবং পরে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করত। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর ইউনিট পরিচালনা করছে।
এসএএ/জেডএস