তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৫ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৫ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিচার্স ইনস্টিটিউট-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।
তিনি বলেন, টোব্যাকো এটলাস-২০২৫ অনুযায়ী দেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত রোগে, দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জন। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্বীকৃত যে, পরোক্ষ ধূমপান সরাসরি ধূমপানের সমান ক্ষতিকর। তাই পরোক্ষ ধূমপান থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ডা. অরুনা সরকার বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অব টোবাকো কন্ট্রোল স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ এবং এর ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সরকার ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এবারও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহার জনিত অসংক্রামক রোগ (ক্যান্সার স্ট্রোক হৃদরোগ ফুসফুসের ব্যাধি ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্ব আরোপ এবং তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই অধ্যাদেশে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্তি, বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন ও সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার বন্ধ, সিগারেটের প্যাকেটের সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতা ৭৫ শতাংশে উন্নতি করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল ও খেলাধুলার খানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে অকাল মৃত্যু ঘুমাবে। স্বাস্থ্য ব্যয় হ্রাস করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখবে বলেও জানান তিনি।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর রোগ তথ্য ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় অধ্য দৃষ্টি যুগন্তকারী তাই সংসদের প্রতি প্রথম অধিবেশনে এটিকে আইনের রূপান্তর করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আইনটি পাস হলে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপান থেকে সুরক্ষা পাবে, তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমবে। আর আইন পাস না হলে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইনের রূপান্তর করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুয়র (ডরপ), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, নারী মৈত্রী, প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা), পিপিআরসি ও উবিনীগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এএএম/জেডএস